ফ্লয়েড হত্যায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশ দোষী সাব্যস্ত

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৬

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেয়াপোলিসের রাস্তায় গত বছর আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনায় সাবেক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে মার্কিন আদালত। এক ভিডিওতে দেখা যায়, গত বছরের ২৫ মাসে ফ্লয়েডকে গ্রেফতারের সময় তার গলার ওপর ৯ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাঁটু গেড়ে বসে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সি পুলিশ অফিসার ডেরেক চাওভিন। এই ঘটনায় বিশ্ব জুড়ে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এদিকে মঙ্গলবার রায়ের দিনেই পুলিশের গুলিতে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরী নিহত হয়েছে। খবর বিবিসির

এই রায় মার্কিন ইতিহাসের

উল্লেখযোগ্য ঘটনা

শাস্তি ঘোষণা না করা পর্যন্ত চাওভিন পুলিশি হেফাজতে থাকবেন। সাজা হিসেবে কয়েক দশক জেল খাটতে হতে পারে তাকে। এই রায়ে পৌঁছাতে জুরিকগণ পুরো এক দিন সময় নেন। এর আগে তিন সপ্তাহ ধরে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। রায় ঘোষণার পর উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক শত মানুষ রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জর্জ ফ্লয়েডের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা শেষ হয়ে যায় না। ফ্লয়েড পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প বলেন, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটা ঘটনা। এক টুইটে তিনি বলেন, কষ্ট দিয়ে অর্জিত ন্যায়বিচার অবশেষে হাতে এলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও যে জবাবদিহিতা থাকা দরকার সেটিই এই রায়ের মাধ্যমে পাওয়া গেল।

বাইডেন ও কমলা হ্যারিসের ফোন

রায় ঘোষণার পর পরই ফ্লয়েড পরিবারকে টেলিফোন করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। বাইডেনকে বলতে শোনা যায়, অবশেষে ন্যায়বিচার হলো। আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে। পদ্ধতিগত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এটি ছিল প্রথম পদক্ষেপ। টেলিভিশনে দেওয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বাইডেন বলেন, পদ্ধতিগত বর্ণবাদ পুরো জাতীয় আত্মার ওপর একটি কলঙ্ক। এরইমধ্যে হ্যারিস আইনপ্রণেতাদের জর্জ ফ্লয়েড নামে একটি বিল পাশের নির্দেশ দিয়েছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশিং ব্যবস্থায় সংস্কার আনবে। তিনি বলেন, এই বিল জর্জ ফ্লয়েডের লিগ্যাসির অংশ। এটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। মার্কিন মিডিয়াগুলো বলছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন চাওভিন।

অভিযোগগুলো কী?

নরহত্যা হচ্ছে যখন কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হয়। সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছেকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত ছিল। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ৪০ বছর। থার্ড ডিগ্রি মার্ডার মানে হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করেছে যার কারণে অন্য এক বা একাধিক ব্যক্তির প্রাণনাশ হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ঘটনাও কম। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে মার্কিন বিচার ব্যবস্থা কীভাবে নেবে তার একটি উদাহরণ হিসেবে এই রায়কে দেখা হচ্ছে।

জুরিরা কীভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন?

চাওভিন কারাগারে যাবেন না কি তাকে মুক্তি দেওয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১২ জন জুরিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোনো জুরিরই পরিচয় প্রকাশ হয়নি এবং পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় তারা কেউ সামনেও আসেননি, তবে বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বলতে গেলে এদের মধ্যে তরুণ, শ্বেতাঙ্গের আধিক্য এবং নারী বিচারক বেশি ছিলেন। সোমবার দুপক্ষই যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ করার পর, জুরিরা একটি হোটেলে অন্য সবার থেকে আলাদা হয়ে একটি রায় প্রদান করেন। বিচারকেরা সবাই সর্বসম্মতভাবে এই রায়ে পৌঁছান এবং এর আগ পর্যন্ত তারা কেউ ঘরে ফিরতে পারবেন না বলেও জানানো হয়।

ওহাইওতে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরী নিহত

মঙ্গলবার ওহাইও রাজ্যে পুলিশের গুলিতে ১৬ বছর বয়সি এক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরী নিহত হয়েছে। কিশোরীর নাম ম্যাকিয়া ব্রায়ান্ট। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ঐ পুলিশ কর্মকর্তার শরীরে লাগানো প্রকাশ করা ভিডিও ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে ঐ কিশোরী দুই ব্যক্তিকে ছুরি হাতে তাড়া করছিল। ঐ পুলিশ সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হবে।