শিবলী মোকতাদির
‘জলে তৃষ্ণা মেটে।’ এই বাক্যে কোনো ছলচাতুরী নেই।
কোকিল ও কৃষ্ণচূড়া— উচ্চারিত হলেই নিসর্গ ডুবে যায় নৈঃশব্দ্যে।
তোমার ভূতুড়ে স্থাপত্যকলায় সংযত চাঁদের আনাগোনা—
দেখি আর সন্দেহের সূত্রপাতে বাঁধা পড়ি
মনে হয়, দিন বলে কিছু নেই।
সূর্যকে শক্ত করে হূদয়ে ধারণ করে যে নাবিক
তার নাবালক চোরাহাসি জিজ্ঞাসাচিহ্নের কাছে
পেন্ডুলামের মতো ঝুলে আছে ক্যানভাসের এক কোণে।
ঘুরে-ঘুরে মন খারাপ করা ঘূর্ণির কাছে এসে থামি।
রাতবিরেতে বিগত ঋতুর আগত ফলের বায়না ধরে
কেঁদে চলে যে শিশু— তার সারল্যকে সাথী করে
আমরা বলে যাই— এই তো চলে আসবে বাবা!
ঠিক সেই তত্ত্বে শিল্পের বারান্দা টপকে
তারা টুপটাপ ঢুকে পড়ে আমার অনাবাদি মগজে।
বলে, সান্ত্বনা দেয়— আসলে হয় কী কাকু,
এ-খেলায় যে যেভাবে শান্তি পায়—
এই যেমন— কেউ রক্তে, কেউবা গরম ভাতে,
মরে কেউ ভদ্রাবতী নদীতে ডুবে,
কেউবা ভ্রমর হয়ে ছুটে আসে রঙহীন জবা ফুলে!
