মির্জাপুরে ঝড় ও বৃষ্টিতে ৩ হাজার হেক্টর বোরো ধান মাটিতে মিশে গেছে

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩১

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় গত বুধবার রাতে কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর কাঁচা ও আধা পাকা বোরো ধান মাটিতে মিশে গেছে। ধান মাটিতে মিশে পানিতে পচে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। অপর দিকে ব্যাকটেরিয়াল পেনিক্যাল ব্লাইট রোগে বোরো ধানের শীষ পুড়ে ধান গাছ সাদা ও চিটা হয়ে যাচ্ছে।

হঠাত্ করে কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে বোরো ধান মাটিতে মিশে যাওয়ায় এবং ধান পুড়ে যাওয়ায় এলাকার কৃষকরা চরম বিপাকে পরেছেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হঠাত্ করে কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বোরো ধান মাটিতে মিশে যায়। বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর বোরো ধান মাটিতে মিশে গেছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।

মির্জাপুর উপজেলার পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ঝড় ও বৃষ্টিতে বোরো ধান মাটিতে মিশে গেছে। এছাড়া ১৫-২০ দিন পূর্বে বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান গরম বাতাসে পুড়ে চিটা হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ২১ হাজার ৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। বুধবার রাতে হঠাত্ করে কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর কাঁচা ও আধা পাকা বোরা ধান মাটিতে মিশে গেছে। অপর দিকে ফতেপুর, লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ধান খেত পুড়ে ধানে চিটা হয়ে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফতেপুর, সলিমনগর, যুগিরকোপা, বান্ধরমারা, গোড়াকি, গেড়াকি, বান্দাচালা ও বেলতৈল গ্রামে। সলিমনগর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল হক, রুস্তম আলী সিকদার ও বানিজ সিকদার জানান, ১৫-২০ দিন পূর্বে বোরো ক্ষেতের কচি ধানে মড়ক দেখা দেয়। প্রথমে ধান গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সাদা হয়। তারপর ধানের ছড়া কালো হয়ে মরে যায়। ভরা মৌসুমে বোরো ধানে চিটা হয়ে যাওয়ায় এবং বুধবার রাতের কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে বোরো ধান মাটিতে মিশে যাওয়ায় এলাকার কৃষকরা বিপুল অঙ্কের ক্ষতির সম্মুখীন বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, যে সব জমির ধান পুরোপুরি পেকে গেছে সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অপর দিকে প্রচণ্ড গরম হওয়ায় ব্যাকটেরিয়াল পেনিক্যাল ব্লাইট রোগে বোরো ধানের শীষ পুড়ে ধান গাছ সাদা ও চিটা হয়ে গেছে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে রোগপ্রতিরোধের জন্য কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।