বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আমি আমার কর্মীদের বলব, আমি শান্তির প্রস্তাব দিয়েছি। আমি আরো এক দিন দেখব, আগামী দিন (শুক্রবার) সিদ্ধান্ত দেব, সেই সিদ্ধান্তের আলোকে রাজপথে আমিও থাকব, আমি দেখব পুলিশ-প্রশাসন কী জিনিস, প্রয়োজনে জেলে যাব, জীবন উত্সর্গ করব, আমি আর ছেড়ে দেব না।’
কাদের মির্জার অনুসারী রাজু খানকে গ্রেফতারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বসুরহাট পৌরসভা চত্বর থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন। কাদের মির্জা আরো বলেন, ‘আমি গত পরশু সেহরির সময় কোম্পানীগঞ্জে শান্তির জন্য ১১ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। করোনা থেকে কোম্পানীগঞ্জের মানুষকে রক্ষা করার জন্য একটি পদক্ষেপ আমি নিয়েছি, সেটিও আপনারা শুনেছেন। কিন্তু এখানকার প্রশাসন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তার স্ত্রী (অ্যাডভোকেট ইসরাতুন্নেছা কাদের), এমপি একরাম-নিজামের লেলিয়ে দেওয়া কুত্তারা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা, এখানকার প্রশাসনের দায়িত্বে একরামের অনুগত শামীম (অ্যাডিশনাল এসপি) ও ওসি রনি আমার প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আমার ছেলেদের গ্রেফতার করছে। আমার এখানে সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রাজু নামে আমার একটি ছেলেকে পুলিশ পৌরসভার ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে গেছে। তাদের কত বড় সাহস, পৌরসভা জেলা নিয়ন্ত্রণ করে না, এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। রাজুকে ধরে পুলিশ অমানুষিক নির্যাতন করেছে। গত তিন দিনে আমাদের প্রায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। আমাদের সিরাজপুরের সাধারণ সম্পাদক মিকনকে গ্রেফতার করেছে। আমি দেখার জন্য থানায় গেলে শামীম (অ্যাডিশনাল এসপি) এবং ওসি আমার গায়ে হাত দিয়েছে। আমি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে বলেও কোনো প্রতিকার পাইনি।’
কাদের মির্জার আরেক
অনুসারী রাজু গ্রেফতার
এদিকে কাদের মির্জার অনুসারী মাঈন উদ্দিন প্রকাশ রাজু খানকে (২৯) গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পৌরসভা ভবন এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। রাজু খান বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি কাদের মির্জা ঘোষিত বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।
রাজু খান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান নুর নবী চৌধুরীর ওপর হামলা মামলার ১০ নম্বর আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
