আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাই। তিনি শুক্রবার ভোরে নিজ পৌরসভা কার্যালয়ে তার অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ৪২ মিনিটের বক্তব্যে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমার পিতা মরহুম মোশারেফ হোসেন নীতি নৈতিকতা নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। অনেক কষ্ট করে আমাদের সংসার চালিয়েছেন। কারো কাছে হাত পাতেননি। এক কুলাঙ্গারকে (মাহবুব রশিদ মঞ্জু) আমি রাজনীতিতে এনেছি। এর সঙ্গে আলাল ও লিটনকেও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে এনেছি। এ তিন জন ছাত্রলীগের দায়িত্বে ছিল। তখনকার সময় তারা কুখ্যাত মফিজ ডাকাতের সঙ্গে ডাকাতি করত। তারা যে রুমে বসত সে রুমে ডাকাতির মুখোশ, হাতমোজা, চুরিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এর পর তাদেরকে দল থেকে বের করে দেই।’
তিনি বলেন, এরা আবার একত্র হয়ে বসুরহাট ডাক বাংলোয় গিয়ে মদ, নারী ও জুয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি উপজেলা প্রশাসনকে দিয়ে তাদেরকে বের করে দিই। এরপর মঞ্জুর পিতা আমার ভগ্নীপতি সাব-রেজিস্ট্রার আমানত উল্যাহ মঞ্জুসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আমি তাদেরকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে তাড়িয়ে দিই। ঢাকায় গিয়ে মন্ত্রীর নাম বিক্রি করে তারা চাঁদাবাজি, চাকরি বাণিজ্যসহ মাদকসেবন করত। এ ছেলে হুংকার দেয় শুক্রবারের মধ্যে তার দাবি না মানলে শনিবার সে এখানে (পৌরসভা কার্যালয়) এসে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে, অস্ত্রবাজি করবে।
সেতুমন্ত্রীর ভাগনে মাহবুব রশিদ মঞ্জু বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ফেসবুক লাইভে এসে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কাদের মির্জা এসব কথা বলেন।
কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনারা জানেন গত দুই দিন আগে শান্তির জন্য ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রশাসন এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। পুলিশ বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাজুকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এএসপি শামীম ও ওসি রনি আমার প্রতিপক্ষ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে আমার অনুসারী রাজুকে বেধম মারধর করেছে। এ ব্যাপারে আমি ডিআইজিকে বলার পরও তাকে কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। আমার অনুসারী সিরাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মিকনকে পুলিশ গ্রেফতার করে অমানুষিক নির্যাতন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যুবলীগ নেতা নুরউদ্দিন খাজাসহ ৪-৫ জনকে থানায় নিয়ে নির্যাতন করেছে। কুলাঙ্গার রাহাত (ভাগিনা) ও কুলাঙ্গার বাদলের নির্দেশে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। আমি এদেরকে দেখতে গেলে এএসপি শামীম ও ওসি রনি আমার গায়ের ওপর হাত দিয়েছে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে। আমার সহকারী সাজুকে মারধর করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ডিসি, এসপি, এএসপি, ওসি রনি ও উপজেলা প্রশাসনসহ তারা আজকে এখানে যাতে শান্তি স্থাপন না হয় সেজন্য এ ঘটনাগুলো সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর কোম্পানীগঞ্জে গণবাহিনীর প্রধান খিজির হায়াত ও সদস্য তথাকথিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী আমাদের কবিরহাট কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামালকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তারা মুক্তিযোদ্ধা জামাল ভাইকে পিটিয়ে আহত করে। তারা তত্কালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমার মামা এমদাদুল হককে গুলি করে পেটের ভুঁড়ি ফেলে দেয়, নুরনবী মাস্টারকে গুলি করে আহত করে, তারা কবিরহাট উপজেলায় ব্যাংক ডাকাতি করে, তারাই এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।’
মির্জা কাদেরের বাড়িতে গুলিবর্ষণের অভিযোগ
আবদুল কাদের মির্জার বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গুলি ছোড়া হয় বলে মেয়রের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন এ প্রতিবেদককে জানিয়ছেন।
ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, গুলির খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি বাড়ির উত্তর পাশের এলাকা থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশ এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে।
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ছারওয়ারের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় একদল দুর্বৃত্ত বোমা হামলা করে এবং যাওয়ার সময় ঘরের বেড়ায় আগুন লাগিয়ে দেয়।
ওবায়দুল কাদেরকে পদত্যাগ করতে
বললেন ভাগনে মাহবুব রশিদ মঞ্জু
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে পদত্যাগ করতে বলেছেন তার আপন ভাগনে ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুব রশিদ মঞ্জু।
তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনাকে আমরা শ্রদ্ধা-সম্মান করি। কিন্তু আপনার দুই ভাই ও ভাতিজাসহ তাদের সন্ত্রাসীরা যে তান্ডব শুরু করেছে তা বন্ধ করুন। তা না হলে জনগণ যেদিন রাস্তায় বেরিয়ে আসবে সেদিন কারো পিঠের চামড়াও থাকবে না।’ মাহবুব রশিদ মঞ্জু বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় নিজের ফেসবুক লাইভে এসে ৪৩ মিনিটের বক্তব্যে এসব কথা বলেন ।
