চলমান লকডাউনে গাজীপুর জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন গণপরিবহনের চালক-শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের লোকজন অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। গত ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশের মতো গাজীপুরে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকায় গণপরিবহনে নিয়োজিত কয়েক হাজার চালক-শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীসহ জেলার নিম্ন আয়ের লোকজনও খাদ্যসংকটে পড়ে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণপরিবহন সেক্টরে নিয়োজিত ৯৮ শতাংশ চালক-শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও সুনির্দিষ্ট বেতন নেই। ফলে তাদের প্রায় সবাইকে দৈনিক রোজগারের ভিত্তিতে আয় করে সংসার চালাতে হয়। বছরব্যাপী করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কয়েক মাস পূর্বে গণপরিবহন চালু করা হয়। সম্প্রতি করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন দিয়ে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এ সেক্টরে কর্মরত কয়েক হাজার চালক-শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাজীপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এবং চান্দনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন স্ট্যান্ডে কয়েক হাজার বাস-মিনিবাস, লেগুনা, তাকওয়া পরিবহন, টেম্পু সারিবদ্ধভাবে পার্ক করে রাখা হয়েছে। এসব স্থানে কর্মহীন চালক-শ্রমিকরা বিচ্ছিন্নভাবে ঘোরাফেরা বা জটলা পাকিয়ে সময় পার করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন পরিবহন চালক-শ্রমিক অভিযোগ করেন, লকডাউনে কর্মহীন থাকায় তারা খুবই সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। লকডাউনের পূর্বে তারা বাস-মিনিবাস, লেগুনা, টেম্পু চালিয়ে প্রতিদিন যা আয় করতেন তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। বর্তমানে তাদের দুর্বিষহ অবস্থা বর্ণনা করা সম্ভব না। বাস-মিনিবাস মালিক শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো খোঁজখবর নেওয়া বা সহযোগিতা করা হচ্ছে না।
গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান আহমদ সরকার বলেন, জেলা ও মহানগরীতে প্রায় ৫০ হাজার পরিবহন চালক ও শ্রমিক রয়েছে। আগের লকডাউনে বিভিন্ন সময়ে তাদের ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছিল। চলমান লকডাউনে তাদের ত্রাণসহায়তা দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
এ ব্যাপারে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, লকডাউনে সব শ্রেণিপেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেলার নিম্ন আয়ের লোকজনসহ পরিবহন সেক্টরের চালক-শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে তাদের চিন্তাভাবনা আছে। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিকা প্রস্তুত করে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া শুরু হয়েছে।
