ঁজীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র

এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০১৯

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪২

প্রিয় এইচএসসি শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আশা করি পরীক্ষা সামনে রেখে সবাই পড়াশোনায় নিবিড় মনোনিবেশ  করেছো। আজ আমরা তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের ৪ অধ্যায়ের মানব শারীরতত্ত্ব এর রক্ত ও রক্ত সংবহন বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করবো, যা ২০১৯ সালের অভিন্ন প্রশ্নপত্রের এইচ.এস.সি সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রফিকের আব্বু অতিকায় মোটাসোটা ও বয়সে প্রবীন। হঠাত্ পাশের বাড়ি বিয়ের অনুষ্ঠানে বসে বুকে ব্যথা অনুভব করায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন। ডাক্তার তাকে বললেন, এটি হার্ট ডিজিজের পূর্ব লক্ষণ।

(ক) পলিসাইথেমিয়া কী?                                           ১

(খ) রক্ততঞ্জন বলতে কী বুঝ?                   ২

(গ) রফিকের আব্বুর রোগ লক্ষণ ব্যাখ্যা কর।           ৩

(ঘ) রফিকের আব্বুর ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ বিশ্লেষণ কর।                                                    ৪

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ঃ

(ক) পলিসাইথেমিয়া :প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা ৬৫ লাখের বেশি হলে তাকে পলিসাইথেমিয়া বলে।

(খ) রক্ত তঞ্জন : যে প্রক্রিয়ায় ক্ষতস্থান হতে নির্গত হওয়া রক্তের প্লাজমা থেকে ফাইব্রিনোজেন আলাদা হয়ে ফাইব্রিন জালক গঠনপূর্বক রক্তপাত বন্ধ করে এবং রক্তের অবশিষ্টাংশকে জেলির ন্যায় থকথকে পিণ্ডে পরিণত করে তাকে রক্ত তঞ্জন বা রক্ত জমাটবাঁধা বলে। এটি আসলে একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং কমপক্ষে ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন ফ্যাক্টরের সমন্বিত কার্যের দ্বারা এটি সংঘটিত হয়।

(গ) উত্তর : উদ্দীপকের রফিকের আব্বুর রোগলক্ষণটি হচ্ছে অ্যানজাইনা। যা হূদরোগ বা হার্ট ডিজিজের পূর্বলক্ষণ মাত্র। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-

১. উক্ত ফলক বা স্টার্নামের পেছনে বুকে ব্যথা হওয়া।

২. ব্যায়াম বা অন্য শারিরীক কাজে, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ভোজন, শীতকাল বা আতঙ্কে বুকে ব্যথা অনুভব। এ ব্যথা ৫-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়ে থাকে।

৩. এটি গলা, কাঁধ, চোয়াল, বাহু, পিঠ এমনটি দাঁতেও ছড়াতে পারে।

৪. অনেক সময় ব্যথার উত্সস্থল বোঝা যায় না।

৫.প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে বমিবমি ভাব, ঘনঘন শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা দম ফুরিয়ে হাঁপানো ইত্যাদি।

(ঘ) উত্তর : রফিকের আব্বুর রোগলক্ষণটি হচ্ছে অ্যানজাইনা। ডাক্তারী পরিভাষায় যা হূদরোগ বা হার্ট ডিজিজের পূর্বলক্ষণ মাত্র। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া এবং তা ধরে রাখাই হচ্ছে এটি প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। এ জন্য কিছু বিষয় গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। তবে কিছু বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। যেমন: বয়স, লিঙ্গভেদ, হূদরোগ ও অ্যানজাইনার পারিবারিক ইতিহাস। যা আমাদের সাধ্যের মধ্যে, সেগুলো মেনে চলতে হবে। নিম্নে তা দেয়া হলো-

১. ধূমপান পরিহার করতে হবে।

২. নিয়মিত ডায়াবেটিস, প্রেসার কন্ট্রোল রাখতে হবে।

৩. নিয়মিত সময় করে ঔষধ সেবন করে যেতে হবে।

৪. দেহের অতিরিক্ত মেদ কমাতে হবে।

৫. চর্বি জাতীয় খাবার ও প্রাণীজ মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৬. অ্যালকোহল ও মদ্যপান বর্জন করতে হবে।

৭. সারাক্ষণ হাসি খুশি থাকতে হবে।