এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রহ প্রকাশ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে তুর্কি অটোম্যানদের হাতে বিপুলসংখ্যক আর্মেনীয় নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে এ বিষয়ে আগ্রহের কথা তিনি ব্যক্ত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। রয়টার্স
ওয়াশিংটনের এ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ন্যাটো মিত্র দুই দেশের সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটাবে বলেই পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার তিন মাসেরও বেশি সময় পর বাইডেন শুক্রবার প্রথম টেলিফোনে এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বললেন; সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা তুর্কি প্রেসিডেন্টের অনাগ্রহের কারণেই দুই নেতার মধ্যে আলাপে এত দেরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর্মেনীয়রা প্রতি বছর ২৪ এপ্রিল তাদের ওপর সংঘটিত ঐ ‘গণহত্যা’কে স্মরণ করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র এত দিন অটোম্যানদের ১৯১৫ সালের হত্যাযজ্ঞকে ‘ভয়াবহ খারাপ অপরাধ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে এসেছে; ন্যাটো মিত্র তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঠেকাতেই তারা এমনটা বলত বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই বাইডেন আর্মেনীয় ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতি নিয়ে সরব ছিলেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ঐ ‘গণহত্যা’কে স্বীকৃতি দিতে ওঠা একটি বিল ৪০৫-১১ ভোটে গৃহীত হলে সে সময় ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বাইডেন তাকে স্বাগত জানান।
শুক্রবার দুই নেতার ফোনালাপ নিয়ে দেওয়া হোয়াইট হাউজ ও তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কোনো বিবৃতিতেই আর্মেনীয় ‘গণহত্যার স্বীকৃতি’ প্রসঙ্গটি স্থান পায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাহ্য করে তুরস্কের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এস-৪০০ ক্রয়, সিরিয়া, মানবাধিকারসহ নানা ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে বিরোধ চলছে। আর্মেনীয় ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতি ঐ বিরোধ আরো তীব্র করবে বলেই আশঙ্কা অনেকের। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি অটোম্যানরা আনাতোলিয়ার পূর্ব অংশ থেকে সিরিয়ার মরুভূমি ও আশপাশের এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ আর্মেনীয়কে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল, যার দরুন কয়েক লাখ লোক বিভিন্ন রোগে ভুগে ও অনাহারে মারা পড়েছিলেন বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।
অটোম্যানদের ঐ পদক্ষেপে কত জনের মৃত্যু হয়েছিল তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক আছে। আর্মেনীয়রা ঐ হত্যাযজ্ঞে অন্তত ১৫ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও তুরস্কের অনুমান মৃতের সংখ্যা এর পাঁচ ভাগের একভাগ হতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারস (আইএজিএস) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঐ ঘটনায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করছে।
