রাসায়নিক গুদাম সরাতে ব্যর্থতায় দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি বিআইপির

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:১৩

পুরান ঢাকার আরমানিটোলার অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। পাশাপাশি এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা না বলে ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের অতি মুনাফা লাভের প্রবণতা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার সম্মিলিত দায়ের ফলাফল বলছে বিআইপি। গতকাল শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাসায়নিক গুদাম সরাতে ব্যর্থতার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবিও জানায় বিআইপি।

প্র্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলে, পুরাতন ঢাকা বোমার ওপর বসবাস করছে, এই চরম সত্যটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সসহ দেশের দায়িত্বশীল সকল মহল থেকে বারংবার বলা সত্ত্বেও পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম নিমতলী ট্র্যাজেডির ১১ বছর পরেও সরেনি। মানুষের জীবন ও সম্পদকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়া হলে বর্তমানে এই পরিস্থিতি হবার কথা ছিল না। মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থাসমূহের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার যে দায় আছে তাকে উপেক্ষা করে জনস্বার্থ ও মানুষের জানমাল রক্ষায় সরকারের বলিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেউ রোধ করতে পারবে না।

রাসায়নিক গুদাম যে কত ভয়ংকর হতে পারে, ২০২০ সালে লেবাননের বৈরুতের বিস্ফোরণ তার জাজ্বল্যমান উদাহরণ। পুরান ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় যেসব বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের মজুত আছে, তা যেকোনো ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর শঙ্কা তৈরি করে রেখেছে সার্বক্ষণিকভাবে। এই বাস্তবতায় নিমতলী, চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর সরকার ঘোষিত নির্দেশনা কেন বাস্তবায়িত হল না এবং রাসায়নিক কারখানাসমূহ সরানোর উদ্যোগসমূহ কেন বাস্তবায়ন করা যায়নি সেটা অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা প্রয়োজন।

তারা আরো জানায়, নিমতলী ও চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পর রাসায়নিক গুদমের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করেছে সিটি করপোরেশন যেটা সাধুবাদযোগ্য। কিন্তু পুরান ঢাকায় রাসায়নিক গুদাম ও কারখানাসমূহের নজরদারি কার্যক্রম চালানো সিটি করপোরেশন এবং ওয়ার্ড কাউন্সিল অফিস, কারখানা অধিদপ্তর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তা পালনে সক্ষম হয়নি সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ।

পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম ও কারখানাগুলোর অধিকাংশই ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও আদর্শগত মান অনুসরণ করে নির্মিত হয়নি। দেশের রাজধানীর মূল কেন্দ্র থেকে এই ধরনের বিপজ্জনক ব্যবসা কীভাবে দিনের পর দিন চলতে দিচ্ছি, সেটা আমাদের আধুনিক ও বসবাসযোগ্য শহর গড়বার অঙ্গীকারকে মারাত্মক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

কেরানীগঞ্জে বিসিক শিল্পনগরীর পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে রাসায়নিক গুদাম সরানোর যে প্রস্তাবনা ছিল, ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্লটভিত্তিক শিল্প এলাকা তৈরি করে রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমাদের রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তরের কাজকে বিলম্বিত করছে।