আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশন

ভোটার না হলেও প্রার্থী, গঠনতন্ত্র না মেনে গঠনতন্ত্র সংশোধন

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৪:১১

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসারদের সংগঠন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের সাধারণ সভা ছিলো মার্চের ২০ তারিখ। ওই সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সদস্যের উপস্থিতি না থাকলেও সংশোধন করা হয়েছে গঠনতন্ত্র। সংগঠনটির কেউ ভোটার না হলেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে এমন পরিবর্তনও আনা হয়েছে।  এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির সদস্যরা। ফেডারেশনের সদস্যরা বলছেন, সব সদস্যদের না জানিয়ে এ ধরনের সংশোধন কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার লিপ্সা থেকে এ ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। সভায় উপস্থিত কয়েকজন সদস্যের বিরোধিতা সত্ত্বেও সংশোধন করা হয় গঠনতন্ত্র।

সংগঠনটির সদস্যদের দাবি, সভাপতি ও মহাসচিব সহ অল্প কয়েকজন ছাড়া নির্বাচন এবং গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে কেউ কিছু জানতো না। নির্বাচনের পর সন্ধ্যায় ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে তারা জানতে পারে নির্বাচন হয়েছে এবং গঠনতন্ত্রেও বড় ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে। তবে মহাসচিবের দাবি, সুন্দরবন কুরিয়ারযোগে সবাইকে দাওয়াতপত্র পাঠানো হয়েছে। কেউ না আসলে তার দায়ভার কমিটির নয়।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফেডারেশনের সদস্য। এমন অন্তত দশ জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সভার জন্য তারা কোন ধরনের চিঠি পাননি। এমনকি তারা জানতেনও না।

ওই সভায় কোরাম পূর্ণ হয়েছিল বলে দাবি করেন ফেডারেশনের মহাসচিব মীর মো. মোর্শেদুর রহমান। তিনি বলেন, কোরাম নিয়ে কোন সমস্যা নেই। সভায় ৬৯ জনের স্বাক্ষর হয়েছিল। ১২ থেকে ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলো। সব মিলিয়ে ২৪ জন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলো।

তবে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৩৮ নং ধারায় বলা হয়, গঠনতন্ত্র সংশোধনীর জন্য কেন্দ্রীয় পরিষদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হবে। সংগঠনে ৪৬ টি বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য পরিষদে থাকায় সেখানে ৯২ জন সদস্য হিসেবে পরিগণিত হবেন। যার দুই তৃতীয়াংশ হচ্ছে ৬১ জন, যা গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য কোরাম হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন গঠনতন্ত্রের ৮.১ এর গ অনুচ্ছেদে বলা হয়, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীরত থাকলে ফেডারেশনের যেকোনো পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে বা মনোনীত হতে পারবেন। তবে ওই প্রার্থীর ভোটাধিকার থাকবে না।

ওই কমিটির উপদেষ্টা আলী আজিম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন নির্বাচনে ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মো. মোর্শেদুর রহমানের হার হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তাড়াহুড়া করে নির্বাচন দেয়া হয়। এমনকি আমিরুল ইসলাম ২৯ তারিখে  আগামী নির্বাচনে পরাজিত হন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন করে ওই দিনই কিভাবে তারা নির্বাচন করে। এটা অযৌক্তিক বিষয়।

তবে ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ফেডারেশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে তারা এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সদস্যদের মতামত না নিয়ে ফেডারেশনে পরিবর্তন আনার বিষয়ে তিনি বলেন, সবার মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

কমিটি ঘোষণায় হট্টগোল:

চলতি মাসের তিন তারিখ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত নতুন কমিটি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন ও নির্বাচন নিয়ে উপস্থিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা কথা বলতে চাইলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি কথা বলতে উঠলে তাকে থামিয়ে দেয়া হয়। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পক্ষ থেকে দাবি উঠলে তাকে কথা বলতে দেয়া হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা হট্টগোলের পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সভা ওয়াক আউট করে চলে আসে। তাদের চলে আসার পর নব-গঠিত কমিটি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনার।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছে, নির্বাচন করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ফেডারেশনের ৩৪ বছরের ইতিহাসে ঘটেনি। অফিসারদের অবমূল্যায়ন করে একটি সিন্ডিকেট গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এ ঘটনায় আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
ইত্তেফাক/এমএএম