সম্প্রতি লন্ডন ফ্যাশন উইকের মঞ্চে হাঁটলেন প্রথম বাংলাদেশি পুরুষ মডেল রমজান মিয়া। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি উঠে এসেছেন ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার অ্যান্ড ইনসপিরেশন ১০০ (বিবিপিআই)’ সেরা ১০০ প্রভাব বিস্তারকারী বাংলাদেশির তালিকায়।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ নিজেকে খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে তুলে ধরতে পারেন ক্যামেরার সামনে। যে প্রতিভা তাকে নিয়ে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ চারটি ফ্যাশন উইকের মধ্যে একটি লন্ডন ফ্যাশন উইকের ক্যাটওয়াকে। এর মধ্য দিয়েই তিনি অর্জন করলেন প্রথম বাংলাদেশি মডেল হিসেবে লন্ডন ফ্যাশন উইকের র্যাম্পে হাঁটার গৌরব। মডেলিং ও ব্রিটিশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন রমজান মিয়া। সম্প্রতি ‘আলাদিন’ নামের একটি সিনেমা করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এছাড়া ব্রিটিশ হরর মুভি ‘ঘোস্ট স্টোরিজ’, ‘লিগেসি’ ও ‘নাকা’ শিরোনামের মুভিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে খুব মসৃণ ছিল রমজানের এই পথচলা। শ্যাম বর্ণ, সঠিক উচ্চতা ও সুঠাম দেহের অধিকারী না হয়েও যখন মডেলিংয়ের জন্য নিজেকে তুলে ধরতেন, তখন অনেক নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাকে বন্ধু ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে। তবে তিনি মনে করেন যদি এসব কথা ধরে রেখে থেমে যেতেন, তবে হয়তো এই পর্যায়ে আসতে পারতেন না। রমজান বলেন, ‘আমি সেই নেতিবাচক মন্তব্যগুলোকে সবসময় ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছি।’
যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরে ১৯৯৩ সালে রমজানের জন্ম। তবে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সদর উপজেলায় তার পৈতৃক বাড়ি। বাবা কুদ্দুস মিয়ার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের এক বাংলা নাটকের মধ্য দিয়ে তার অভিনয়ে হাতেখড়ি।
যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরের একটা ছোট্ট শপিং মলের বিজ্ঞাপনে মডেলিংয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার পথচলা। তবে তিনি অনেক ছোটবেলা থেকেই মডেলিং শুরু করেন নিজের ভালো লাগা থেকে। তিনি পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বার্ড কলেজ অব ডান্স অ্যান্ড থিয়েটার থেকে। ২০১৬ সালে তিনি কোর্স সম্পন্ন করেন এবং কিছুদিন সেখানে প্রশিক্ষণও দিয়েছেন ছাত্রছাত্রীদের। এরপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নামী দামি সব আন্তর্জাতিক ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন মডেল হিসেবে। এর মধ্যে মাইক্রোসফট, ল’রিয়েল, জে ডি, পাউল স্মিথসহ বেশ কিছু কমার্শিয়ালে মডেল হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।
