ক্রয় নীতিমালার স্পষ্টীকরণ চান উদ্যোক্তারা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৬

কোথাও অসামঞ্জস্যতা থাকলে তা দূর করা হবে-ডিজি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

অসম নীতিমালা এবং দ্বৈতনীতির কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা। সরকারি ক্রয়নীতিতে অগ্রাধিকার না পাওয়ায় দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন। অথচ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও ক্রয়নীতির কারণে নিম্নমানের বিদেশি পণ্য আসার অবারিত সুযোগ বিদ্যমান। যা রহিত করার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সিপিটিইউ মহাপরিচালক সোহেলুর রহমান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেছেন, ক্রয়নীতিমালার কোনো অস্পষ্টতা থাকলে সেগুলো আমাদের নজরে আনলে সমাধানের চেষ্টা করি। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুরই পরিবর্তন করতে হয়। কোথাও অসামঞ্জস্যতা থাকলে তা দূর করা হবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুসরণ করা হয়। এই বিধিমালার কিছু ধারা সরাসরি আমদানি নির্ভরশীলতায় বাধ্য করছে যা দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির ধারা বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ উক্ত পণ্যসমূহের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানোর সামর্থ্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে। পিপিআর বিধিমালা ২৯-এর উপ বিধি (৩) উল্লেখ আছে ‘কারিগরি বিনির্দেশে কোনো পণ্যের ট্রেডমার্ক বা পণ্যের ব্যবসায়িক নাম, পেটেন্ট, নকশা বা ধরন, নির্দিষ্ট উত্স দেশের নাম, উত্পাদনকারী বা সেবা সরবরাহকারীর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা যাবে না।’ একই ধারার উপ বিধি (৪) এ উল্লেখ আছে ‘উপ বিধি (৩) এ যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি বিনির্দেশের সাধারণরূপ প্রস্তুতক্রমে তা দরপত্রদাতাগণের নিকট সহজে বোধগম্য করে উপস্থাপন করার জন্য ক্রয়কারীর পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতা না থাকে, তা হলে ক্রয়কারী কারিগরি বিনির্দেশে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যের বিবরণ উল্লেখ করতে পারবে, তবে এই ক্ষেত্রে তাতে ‘একরূপ বা সমতুল্য’ শব্দগুচ্ছ যোগ করতে হবে।

দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের মতামত হচ্ছে, বেশিরভাগ ক্রয়ে উক্ত উপ বিধি (৪) এর অপব্যবহার করে শুধুমাত্র বিনির্দেশের (স্পেসিফিকেশন) পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের বা বিদেশি ব্র্যান্ডসমূহের নাম উল্লেখ করা থাকে। এখানে বাংলাদেশের নাম বা দেশীয় ব্র্যান্ডসমূহ উল্লেখ না থাকার কারণে ‘একরূপ বা সমতুল্য’ শব্দগুচ্ছর বলে দরপত্রে অংশগ্রহণ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও দেশীয় দরদাতারা ‘একরূপ বা সমতুল্য’ প্রমাণ করতে পারে না বিধায় কোনো কাজ পায় না। অথচ ‘একরূপ বা সমতুল্য’ শব্দগুচ্ছর কোনো সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা দরপত্রদাতাগণ দেয় না, এমনকি ‘পিপিআর’-এর কোথাও উক্ত শব্দগুচ্ছর কোনো সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা উল্লেখ নাই। এতে করে দেশীয় শিল্প ন্যায্যমূল্যে তার পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। অথচ অস্বাভাবিক বেশি মূল্যে একইমান বা নিম্নমানের বিদেশি পণ্য ক্রয়ের ফলে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। তাদের দাবি, পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিধি ২৯(৪) অপব্যবহার রোধ কল্পে, সুনির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নামের ক্ষেত্রে কারিগরি বিনির্দেশ  প্রস্তুতের সময় দেশীয় উত্পাদিত ব্র্যান্ডের অগ্রাধিকার দিতে হবে।