তানোরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে স্পিরুলিনা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩৮

তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

বরেন্দ্র অঞ্চলের তানোর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে ‘সবুজ সোনা’ খ্যাত স্পিরুলিনা। সাধারণত দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে চাষ হলেও এবার তানোরের আমশো গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। সামুদ্রিক এই শৈবাল চাষে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কলেজ শিক্ষক রাকিবুল সরকার পাপুল তার পরিত্যক্ত ধানের চাতালে কৃত্রিম জলাধার তৈরি করেছেন। এখন সেখানেই শৈবাল চাষ শুরু করেছেন তিনি। জানা গেছে, তার পরিত্যক্ত ধানের চাতালে বর্তমানে ১৭ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জলাধার রয়েছে। গত ৪ মার্চ থেকে স্পিরুলিনা আহরণ শুরু হয়েছে।

উদ্যোক্তা রাকিবুল সরকার পাপুল জানান, দেশের প্রায় দেড় শ জলাধারের মধ্যে এটি সর্ববৃহত্। গত ৪ জানুয়ারি ‘বীজ’ জলাধারে ঢালার পর কৃত্রিম উপায়ে শৈবাল বড় হচ্ছে। এক সপ্তাহ পরপর আহরণের পাশাপাশি মাসে শুকনো শৈবালের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ কেজি হচ্ছে। রোদ বেশি থাকলে উত্পাদন বেশি হবে। ছাঁকনি দিয়ে শৈবাল সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা শৈবাল শুকালে ওজন হয়ে যায় আগের তিন ভাগের এক ভাগ। ৩ হাজার টাকা কেজি দরে এ শৈবাল বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আশা করছেন ছয় মাসে এ বিনিয়োগ উঠে আসবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে রঙিন মাছ চাষের জন্যও স্পিরুলিনা অনেক দামে থাইল্যান্ড থেকে আনা হচ্ছে। কিন্তু দেশে বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদিত হলে এর দাম অনেক কমে যাবে। ঐ শৈবালের মধ্যে ক্ষতিকর বস্তু তো নেই-ই বরং এর পুষ্টিমান ডিম, দুধ, মাংস, মাছ ও শাকসবজির চেয়েও বেশি।

স্পিরুলিনা নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম জানান, এটি কৃষি বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তবে বিষয়টি মত্স্য বিভাগ ভালো বলতে পারবে। রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ‘স্পিরুলিনা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্যোক্তাকে সাধুবাদ জানাই। প্রয়োজনে সাধ্যমতো সহায়তা দেব।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘বর্তমানে শৈবাল থেকে খাদ্যপণ্য, ওষুধি পণ্য, প্রসাধনী পণ্য, সার, বায়োফুয়েল এবং পরিবেশ দূষণরোধক পণ্য উত্পাদন করা হচ্ছে। লবণাক্ত, আধা লবণাক্ত পানিতে এই শৈবাল জন্মে এবং অল্প খরচে খুব সহজ পদ্ধতিতেই তা চাষাবাদ করা যায়। এ কারণে সামুদ্রিক শৈবাল বিভিন্নভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে।’