জীবিকার ব্যবস্থা না করায় লকডাউন কার্যকর হচ্ছে না

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৩

 

বাম জোটের আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকার শুরু থেকেই অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীনভাবে কাজ করছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন দেশের কয়েক জন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিত্সক। তারা বলেছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে বিশেষ করে জীবিকার সংস্থান না করে অপরিকল্পিত লকডাউন দেওয়ার কারণে সেটি কার্যকর হচ্ছে না। বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে রবিবার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় তারা এই মত দেন। সভায় বাম জোটের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অপরিকল্পিত লকডাউন কাজে আসবে না। চলমান ‘লকডাউনকে ‘নন মেডিক্যাল লকডাউন’ আখ্যায়িত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল স্বাভাবিক রেখে ‘লকডাউন’ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ‘মুভমেন্ট পাশের’ নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিও জানান অধ্যাপক নজরুল। বিএমএর সাবেক সভাপতি ও ‘ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ’—এর সভাপতি অধ্যাপক রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, ‘আমরা লকডাউন দিচ্ছি, কিন্তু জীবিকার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি না, ফলে এটা কার্যকর হচ্ছে না। তিনি বলেন, শুধু ভারতের ওপর নির্ভর না করে টিকার বিকল্প উত্স খুঁজে রাখা দরকার ছিল। ’

সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা দৃষ্টিভঙ্গির ও সামগ্রিক পরিকল্পনার। ক্যাটাগরি করে অধিক, মাঝারি, কম, শূন্য সংক্রমণ এলাকা নির্ধারণ করে ব্যবস্থা না নিয়ে সারা দেশে ঢালাও লকডাউন অপরিকল্পনার পরিচায়ক। যেখানে তিন মাসে এক জনও রোগী নেই; সেখানে লকডাউন কেন? ডা. লেনিন বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যের কর্তাব্যক্তিদের নজর শুধু কেনাকাটায় ও প্রকল্প গ্রহণে। জনগণকে সম্পৃক্ত করার দিকে তাদের আগ্রহ নেই। আমলা দিয়ে হবে না, জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ স্বাস্থ্য বিষয়ক সংকটেও সরকারের আমলা নির্ভরতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি স্বাস্থ্যে না থেকে কখনো পুলিশ, কখনো আমলানির্ভর করে করতে চেয়েছে সরকার। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না। তিনি বলেন, শুরু থেকেই কাজটি সমন্বয়হীনভাবে চলছে। সময় পেয়েও আমরা প্রস্তুতি নিইনি। গত বছর মার্চে পদক্ষেপ নিলে করোনা দেশে ঢুকতে পারত কি না সন্দেহ। ইতালি, ইউকে থেকে জীবাণুবাহী রোগী ঢুকতে না দিলেই হতো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই পরিচালক দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, পদের বদল হয়েছে, দায়ীদের শাস্তি না হওয়ায় স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম, প্রগতিশীল চিকিত্সক ফোরামের সংগঠক ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী আলোচনায় অংশ নেন। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ।