বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনা ভ্যাকসিন আমদানিতে সরকার এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা ও দুর্নীতিতে ভ্যাকসিন প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর্থিক লাভের জন্য সরকার একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া, একটি মাত্র উত্স থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত যে, আত্মঘাতী হতে পারে সে বিষয়ে বিএনপি বরাবরই সতর্ক করে এসেছে। কিন্তু নিজেদের আর্থিক স্বার্থ হাসিলের জন্য সরকার নিজে আমদানি না করে তাদের পছন্দমত চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়ে এবং শুধুমাত্র ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে সংগ্রহ করায় এবং দেড় কোটি ভ্যাকসিনের অগ্রীম মূল্য পরিশোধ করেও এখন পর্যন্ত দুই কিস্তিতে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ পেয়েছে।
গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, গত ২৪ এপ্রিল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অবিলম্বে মূল্য পরিশোধিত ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হবে। ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা তুলে ধরে এর দায় নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের পদত্যাগের দাবি জানাই।
ফখরুল বলেন, সভায় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত চালের আপত্কালীন মজুত তলানিতে নেমে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং সরকার কর্তৃক ধান ও চাল সংগ্রহের জন্য মূল্য নির্ধারণ না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। সভা মনে করে সরকারের মদতপুষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার জনগণের খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত সফরকে কেন্দ্র করে সরকার সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গণহারে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার শুরু করায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানানো হয়। গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতৃবৃন্দকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তাদের থেকে তথাকথিত মিথ্যা স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে বলে সভা মনে করে।
