আরমানিটোলায় আগুন

কেমিক্যালের গুদামের মালিক গ্রেফতার

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৩

রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় হাজী মুসা ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দুই আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা  হলেন—মঈন অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান ও মেসার্স আরএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মোস্তফা। র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও র্যাব-১০ গতকাল সোমবার ভোরে তাদের বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান বলেন, র্যাবের বিশেষ অভিযানে আরমানিটোলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দুই আসামিকে ঢাকা ও বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা  মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামি।

এদিকে গতকাল বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজার র?্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে  র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় হাজী মুসা ম্যানশন ভবনের নিচতলায় ১৫ হাজার টাকায় দোকান ভাড়া নেন মোস্তাফিজুর রহমান  ও মোহাম্মদ মোস্তফা। আগুনের সময় কেরানীগঞ্জের বাসায় ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান আর ভবনের  দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করা মোহাম্মদ মোস্তফা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। র?্যাব কমান্ডার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা  অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় স্ব স্ব গোডাউনে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থ মজুত করেছিলেন। এ জাতীয় কেমিক্যাল মজুতের ব্যাপারে তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছিল না।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে চলে যান। ভবন মালিক মোস্তাক এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল হাজী মুসা ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবন মালিক মোস্তাক আহমেদ ও কেমিক্যাল  গোডাউন মালিকদের নামে বংশাল থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যু ও অবৈধভাবে রাসায়নিক দ্রব্য রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল গভীর রাতে আরমানিটোলার আরমানিয়ান স্ট্রিটের হাজী মুসা ম্যানশনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ভবনটিতে ১৮টি পরিবার বসবাস করত। আটকে পড়া অনেককেই মুমূর্ষু অবস্থায় গ্রিল কেটে, জানালা ভেঙে, ছাদের দরজা ভেঙে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ঘটনার দিনই আগুনে দগ্ধ হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়। পরে রবিবার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট চিকিত্সাধীন অবস্থায় আরো এক জন মারা যান।