যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভারত প্রত্যাগত সাত জন এবং স্থানীয় তিন জনসহ ১০ করোনা রোগীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার দায় কার বা সরকারের প্রটোকলই-বা কী তা নিয়ে প্রশাসনে চলছে তোলপাড়। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। তবে জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেছেন, দায় যারই হোক না কেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার ইত্তেফাককে জানান, পালিয়ে যাওয়া ১০ জনকেই শনাক্ত করে তাদের স্ব স্ব জেলার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে পালিয়ে যাওয়া রোগীদের নাম-ঠিকানা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। তারা তাদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করবেন বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়। গত শনিবার সকাল থেকে রবিবার দুপুরের মধ্যে অনুমতি ছাড়াই তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভারত প্রত্যাগত রোগীরা হলেন : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপপাড়া গ্রামের জালাল হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (৩২), পাসপোর্ট নং-ইজি-০৭৩৫১৫৪, একই জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মনতোষ সর্দারের স্ত্রী শেফালী রানী (৪০), পাসপোর্ট নং-বিএক্স-০৪১৭৮০১, যশোর শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়ার বিশ্বনাথ দত্তের স্ত্রী মনিমালা দত্ত (৪৯), পাসপোর্ট নং-বিআর-০২০১৪২৮, রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুরের গোলাম রব্বানীর মেয়ে নাসিমা আক্তার (৫০), পাসপোর্ট নং-বিএম-০৩১৩৩২০, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ডামরাইল গ্রামের আহমদ সানার ছেলে মো. আমরুল সানা (৫২), পাসপোর্ট নং-বিএম-০২২৪৪৭৬, খুলনার রূপসার শের আলীর ছেলে সোহেল সরদার (১৭) এবং একই জেলার সদরের কলিম কৃষ্ণের ছেলে বিবেকানন্দ (৫২)। পালিয়ে যাওয়া তিন স্থানীয় করোনা রোগী হলেন : যশোর সদরের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা (১৯), একই গ্রামের একরামুল কবীরের স্ত্রী রুমা (৩০) এবং ওয়াপদা গ্যারেজের ভদ্র বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস (৩৭)।
করোনা ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একজন সিনিয়র নার্স বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আসা ১০ জন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু রবিবার সকালের পর থেকে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। যশোর জেনারেল হাসপাতালের একাধিক ডাক্তার বলেন, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে ‘পালিয়ে যাওয়া’ রোগীরা যদি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বাহক হন, তাহলে তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনা পজিটিভ সার্টিফিকেট নিয়েও কারো সীমান্ত পার হবার অনুমতি নেই। তারপরও তারা দেশে চলে আসায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের করোনা প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে জেলা সদরের হাসপাতালে পাঠানোর নিয়ম। এক্ষেত্রে একজন আনসার সদস্যের সহায়তায় পুলিশ এস্কট করে তাদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. দীলিপ কুমার রায় ইত্তেফাককে বলেন, পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তির জন্য ভারত প্রত্যাগত করোনা রোগীদের রেখে চলে যান। রোগীরা খাবার আনার কথা বলে ওয়ার্ডে ভর্তির আগেই সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু হাসপাতালের রেজিস্টারে অ্যান্ট্রি হবার কারণে নিয়মানুসারে তাদের পলাতক দেখানো হয়।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, ভর্তি হবার পর রোগীর দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের পৌঁছে দেওয়ার পর পুলিশের আর কোনো দায় থাকে না। আর পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উনারা জানাননি কেন? পুলিশের ঘাড়ে দোষ চাপানোর কোনো কারণ নেই।
যশোর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ইত্তেফাককে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
