রাজধানীবাসীর স্বপ্নের মেট্রোরেল কোচের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ীর মেট্রোরেল ডিপোতে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রজেক্ট ম্যানেজার-সিপি-৮ (উপ-সচিব) এ বি এম আরিফুর রহমান বলেন, গত বুধবার বিকালে দুটি বার্জ দিয়ে একসেট ট্রেনের মোট ছয়টি কোচ ঢাকায় আসে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে তা লরিতে করে উত্তরা দিয়াবাড়ীর মেট্রোরেলের ডিপোতে নেওয়া হয়। এরপর এটি দিয়াবাড়ী ডিপোর রেলওয়ে ট্র্যাকে বসানো হয় বেলা ১২টা ৫ মিনিটে। সবকিছু পরীক্ষা করে গতকাল এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অধীনে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প (লাইন-৬) বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প নথি অনুসারে, জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামকে ২০১৭ সালে ২৪ সেট ট্রেন নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই পাশে দুটি ইঞ্জিন আর চারটি কোচের সমন্বয়ে ট্রেনের সেটগুলো তৈরি হচ্ছে জাপানে। এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে পাঁচ সেট ট্রেন, যার প্রথমটি বর্তমানে উত্তরা দিয়াবাড়ীর মেট্রোরেলের ডিপোতে। দ্বিতীয় সেট জাপান থেকে ১৫ এপ্রিল রওয়ানা হয়ে সেটি আগামী ১৬ জুন পৌঁছানোর কথা। আর তৃতীয় সেট ১৩ জুন রওয়ানা দিয়ে ১৩ আগস্ট পৌঁছাতে পারে। বাকি দুটি সেটের আসার সময়সীমা এখনো ঠিক হয়নি।
সব মিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে এসব ট্রেন বাংলাদেশে আনার পর মোট খরচ হবে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা থাকবে। স্টেইনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোতে থাকবে লম্বালম্বি সিট। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুই পাশে থাকবে চারটি করে দরজা। জাপানি স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা সংবলিত প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। ভাড়া পরিশোধের জন্য থাকবে স্মার্ট কার্ড টিকিটিং ব্যবস্থা।
