২০ রোজার মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটন খাতের সব শ্রমিক-কর্মচারীর পূর্ণ ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন। ফেডারেশনের আহ্বায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহানা ইয়াসমিন, সাহিদুল ইসলাম, শরীফ আহমেদ, মহিউদ্দিন রিমেল, খালেকুজ্জামান লিপন এবং সদস্য সচিব আহসান হাবিব বুলবুল গতকাল সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়ে বলেন, করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন খাত। আর পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারী মালিকদের দায়িত্বহীন আচরণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এ খাতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নিয়ে গত বছর করোনাকালে মালিকরা সাধারণ ছুটির সময় শ্রমিকদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত অথবা বিনা বেতনে ছুটিতে যেতে বাধ্য করে। যার ফলে পর্যটন শ্রমিকদের সপরিবারে প্রায় অর্ধাহার-অনাহারে জীবনযাপন করতে হয়েছে। দক্ষ অনেক কর্মী পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু সুযোগসন্ধানী মালিক এ বছরেও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। সরকারও লকডাউনে উপার্জনহীন পর্যটন শ্রমিকদের কোনো সহায়তা প্রদান করেননি। যা পর্যটন খাতে কর্মরত ৪০ লাখ শ্রমিক এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যসহ প্রায় দেড় কোটি মানুষকে চরম অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্বের মধ্যেই ঠেলে দিয়েছে। যা কোনো পক্ষের জন্যই সুখকর হবে না। তাই নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ২০ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের পূর্ণ ঈদ বোনাসসহ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া এ খাতে কর্মহীন শ্রমিক-কর্মচারীদের তালিকা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্রদানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
