করোনা অতিমারীতে অনলাইন শিক্ষায় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ২০:৫৮

মো. আনোয়ার হাবিব কাজল

 

করোনাকালে বাংলাদেশের যে সেক্টরটি সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগস্ত তা হল সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে আছে। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়াও সম্ভব হয়নি, অটো পাস দেয়া হয়েছে। এবারও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের বিকল্প উপায় খুঁজছে সবাই। অনলাইন কার্যক্রমের গতির ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ এ ভয়াবহ পরিস্থিতিকে কাটিয়ে উঠতে প্রণান্তকর চেষ্টা করছে। তবে এতসব বাধাবিপত্তি এবং প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক শিক্ষা কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা কোন উন্নত দেশের নয় বরং উন্নয়নশীল আমাদের এই ডিজিটাল বাংলাদেশেরই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)।

সকল প্রকার শিক্ষা কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ডিআইইউকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী সফলতা এনে দিয়েছে তা হল সম্পূর্ণ অটোমেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে যে শক্তিশালী টুলসগুলি ব্যবহার করছে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং ব্লেন্ডেড লার্নিং সিস্টেম (বিএলসি) এবং ‘গো এডু’ প্ল্যাটফর্ম। ডিআইইউ বিএলসি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ‘স্মার্ট এডু’ প্ল্যাটফর্ম সম্পৃক্ত করেছে যার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালনা ও মনিটরিং করা হচ্ছে। ডিআইইউ’র এই ‘বিএলসি’ ডিজাটাল টিচিং এবং লার্নিং এর হাব হিসেবে কাজ করছে।

অনলাইন শিক্ষার একমাত্র উপকরণই কম্পিউটার আর সেই সাথে তার চালিকা শক্তি ইন্টারনেট সংযোগ এবং বিএলসি, এল এম এস ও গো-এডু প্ল্যাট ফর্ম। এ দুই’ এর সুবন্দোবস্ত থাকলে দূরত্ব কোন বাধা নয়। যেকোন স্থানে বসেই লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া সম্ভব। আজ থেকে এক যুগ আগেই ২০০৮ সালে দেশবরেণ্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, স্বপ্নবাজ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের রূপকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান তার তীক্ষ দূরদর্শিতা দিয়ে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাই তথ্যপ্রযুক্তিকে শিক্ষার্থীর এবং শিক্ষার গুনগত মানউন্নয়নের কাজে লাগানো, লেখাপড়ার পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তথ্য প্রযুক্তির ক্রমবিকাশমান ধারার সাথে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যুগোপযোগী করে তুলতে এবং প্রতিযোগীতামূলক চাকরির বাজারে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই “ওয়ান স্টুডেন্ট-ওয়ান ল্যাপটপ” কর্মসূচীর আওয়তায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ল্যাপটপ প্রদান শুরু করেন সেই ২০১০ সাল থেকে। এ কর্মসূচীর আওয়তায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যের ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় তখন থেকেই ডিআইইউ সকল শিক্ষাকার্যক্রম বিএলসি প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হয়।

‘বিএলসি’ প্লাট ফর্মের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে সংযুক্ত রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অগ্রগতি ট্র্যাক করা ও স্বতন্ত্র মূল্যায়ন নিরীক্ষণ এবং তাদের শেখাকে সহজতর করতে অধিকতর সহযোগিতা প্রদান করা।

বিএলসি একটি সুগঠিত ও শক্তিশালী ই-লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং কোর্স তৈরি, গঠন, যোগাযোগ ও পরিচালনা করার ওয়ান স্টপ সমাধান। অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী প্লাগ ইনস্ এবং ইন্টিগ্রেশন এর সমন্বয়ে গঠিত এই বিএলসি প্লাটফর্ম শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহার ও পরিচালনা করা খুব সহজ। প্লাটফর্মটিতে একটি ‘ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ’ কোর্স বিল্ডার রয়েছে যা শিক্ষকদের সহজেই কোর্স প্রকাশ করতে সহায়তা করে। কোর্স উপকরণ, নতুন পাঠ্য ভিডিও, অডিও, পাওয়ারপয়েন্ট, ড্রাইভ রিসোর্স, ডেস্কটপ থেকে যেকোনও ফাইল এমনকি ইন্টারেক্টিভ সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করা বা তৈরি করা (লিংন্ক বা এম্বেড) সুবিধাজনক। প্লাটফর্মটিতে শতাধিক প্লাগ ইন এবং ইন্টিগ্রেশনসহ ২৫টিরও বেশী ইনবিল্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শিক্ষকদের তাদের শিক্ষার্থীদের একাধিক এবং নমনীয় উপায়ে যুক্ত করার সম্ভাবনাগুলি প্রসারিত করে।

বিএলসির মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ইউটিউব, গুগল, ড্রাইভ, এডপজল, এইচ ৫ পি ইন্টারেক্টিভ সামগ্রীর মতো একাধিক উত্স থেকে ভিডিও সহ ক্লাসগুলি সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণীয় এবং ইন্টার্রাক্টিভ করা যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স তৈরি করতে, শিক্ষকরা বিভিন্ন ধরণের মাল্টিমিডিয়া ফাইল, চিত্র, পিডিএফ, ডক্স, এক্সেল শীট এবং অন্যান্য কনটেস্ট সহজেই আপলোড করতে পারেন।

 

লেখক:ঊর্ধ্বতন সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি