চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় খবচ আরো কমিয়ে আনতে চাইছে সরকার। বাজেট শুরুর পর থেকেই কৃচ্ছ্রসাধনে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে এবার চলতি অর্থবছরে আর নতুন কোনো পূর্তকাজ অর্থাত্ নির্মাণ বা স্থাপনা তৈরির কার্যাদেশ প্রদান না করার জন্য নির্দেশনা জারি হয়েছে।
সম্প্রতি অর্থ বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির আলোকে চলতি অর্থবছরের (২০২০-২০২১) অবশিষ্ট সময়ে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নতুন কোনো পূর্তকাজ (নির্মাণ/স্থাপনা) এর কার্যাদেশ প্রদান করা যাবে না। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় এই পরিপত্রের বাইরে থাকবে।
করোনার প্রকোপের মধ্যেই গত জুলাইয়ে অর্থবছর শুরু হয়। প্রতিবছর যে হারে বাজেট বাস্তবায়ন হয়, এবার সেটি আরো কমে গেছে। কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় উন্নয়ন ব্যয়ে চাপ বাড়ছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতায় রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম আট মাস, অর্থাত্ জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে আদায় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। তাই রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি হবে এমন আশঙ্কা রয়ে গেছে। সেজন্য অর্থবছরের শুরুতেই কৃচ্ছ্রসাধনে নানা উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর, প্রকল্পে গাড়ি কেনা বন্ধ করা হয় অর্থবছরের শুরুতেই।
ব্যয়ের চাপ কমাতে এ বছরের শুরুতে বাজেট সংশোধনের আগে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় কোনোভাবে নতুন করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে না। আর কোনোক্রমইে উন্নয়ন খাতের অব্যয়িত অর্থ ভিন্ন খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। পাশাপাশি নতুন এবং চলমান প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত অর্থ থেকে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ও বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। এগুলোসহ মোট ২৪ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই হচ্ছে এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য। এ জন্য বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যয় নিয়ন্ত্রণকে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারের পরিচালনা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছর সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ২ লাখ ৯ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত এই ৯ মাসে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাত্র ৪১ দশমিক ৯২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে যা বিগত বছরগুলোর গড় (৪৫ শতাংশ) বাস্তবায়ন থেকে কম। করোনার কারণে এ বছর এডিপি বাস্তবায়ন হার কম হবে এমনটি ধারণা সংশ্লিষ্টদের। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এজন্য অপ্রাসঙ্গিক ব্যয় যাতে না হয় সেদিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।
