রূপরেখার ভিত্তিতে আন্দোলনের প্রস্তাব কয়েকটি সংগঠনের

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৩

পরিবর্তনের একটি রূপরেখা তৈরি করে সেটির ভিত্তিতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষে একমত পোষণ করেছে কয়েকটি সংগঠন। সংগঠনগুলো হলো—‘ভাসানী অনুসারী পরিষদ’, ‘গণসংহতি আন্দোলন’, ‘নাগরিক ঐক্য’ এবং ‘রাষ্ট্রচিন্তা’। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই আন্দোলনের কথা বলেন। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক নাগরিক সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের আর সময় নেই। রাস্তার আন্দোলন না করে একটি মাফিয়া রাষ্ট্র বানানোর কাজটা পোক্ত করে দিচ্ছি। সাহস করে রাজপথে নামতে হবে। দাবি পূরণ না হলে ঘরে ফিরব না—এমন প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে। পরিবর্তন চাইলে পরিবর্তন হবেই। এভাবে দেশ চলতে পারে না। বন্দুকের গুলি দিয়ে কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। আপনিও পারবেন না। ভালো হয়ে যান। সারা পৃথিবীকে জানানো দরকার আমরা একটা মাফিয়া রাষ্ট্রে আছি।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বাংলাদেশে এরকম কখনো হয়নি। গুলি করে ১৭ জনকে মেরে ফেলার পর বলা হয়েছে নিজেরাই এই কাজ করেছে। আবার পাঁচ জন শ্রমিককে মেরে ফেলার পর বলা হচ্ছে শ্রমিকরাই দায়ী। এটা এক মজার দেশ। এরকম অবস্থায় লড়াইটাই চূড়ান্ত।’

সংবাদ সম্মেলনে বাঁশখালীর সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সেখানে শ্রমিক নিয়োগের সিন্ডিকেট আছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের টাকা দিয়ে কাজ পেতে হয়। সরাসরি কোম্পানি শ্রমিক নিয়োগ না দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে। ফলে শ্রমিকরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, ‘সরকার কাউকে কথা বলতে দিচ্ছে না। ছাত্রদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন, কোটা আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে সরকার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সহিংসতা ঘটায়। মামলা দেয় আন্দোলনকারীদের নামে। আজ সময় এসেছে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে সুস্পষ্ট রূপরেখার ভিত্তিতে একটি আন্দোলন গড়ে তোলার। শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ বা র?্যালি করলে চলবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক আন্দোলনে সরকার হামলা চালায়, এটা এখন একটা প্যাটার্ন। পরে মামলা দেওয়া হয় আক্রান্তদের বিরুদ্ধেই। ‘বেলা’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু একথা আজ যে অসত্য, সেটা প্রমাণ করার জন্যই পুলিশ যেন উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু এর দায়ভার পুরো পুলিশ প্রশাসন বা জাতি কেন নেবে? মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফত বলেন, বাঁশখালীতে আমরা একটি ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, আমরা সবাই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াবো।