‘স্পুিনক-ভি’ টিকার ৪০ লাখ ডোজ আসছে শিগিগর

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ২৩:৩৫

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সরবরাহ সংকটে টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে জটিলতার মধ্যে রাশিয়ার তৈরি করোনার টিকা ‘স্পুিনক-ভি’ আমদানি ও জরুরি ব্যবহারের   অনুমোদন দিল বাংলাদেশ সরকার। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, গত ২৪ এপ্রিল এই টিকা ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছিল। মঙ্গলবারের সভায় তা অনুমোদন পেল। আমরা আজ এই টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিলাম। এখন এটা বাংলাদেশে আমদানি ও ব্যবহারে কোনো বাধা রইল না। আগামী মে মাসেই দেশে আসছে স্পুিনক-ভি টিকার ৪০ লাখ ডোজ।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত ৮ জানুয়ারি ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উত্পাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা আমদানি ও  দেশে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ‘স্পুিনক-ভি’ হলো করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় টিকা, যা বাংলাদেশে মানুষের ওপর প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হলো এর আগে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে কর্মরত রাশিয়া, বেলারুশ ও ইউক্রেনের নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য স্পুিনক-ভি টিকার ১ হাজার ডোজ দেশে আনার অনুমতি দিয়েছিল সরকার। তবে তা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ছিল না।

মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ‘স্পুিনক-ভি ছাড়াও চীনের সিনোফার্মের (চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ) বিষয়েও কাজ করছি আমরা। যে ভ্যাকসিন দেশের জন্য প্রয়োজন, বিভিন্ন উত্স থেকে সেটি পাওয়ার চেষ্টা করছি।’ সভায় রাশিয়ার টিকার সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে জানিয়ে মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল রিপোর্ট, ফেইজ ওয়ান, ফেইজ-টু, ফেইজ থ্রির রিপোর্ট এগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার এই টিকাও দুই ডোজ নিতে হয়। প্রথম ডোজ দেওয়ার ২১ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ। টিকা সংরক্ষণ করতে হয় ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়। মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি করা ঐ টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৯১ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। আমরা দেখতে পেয়েছি, এদের সফলতার স্ট্যান্ডার্ড ভালো। এই টিকার নিরাপত্তা সূচকও ভালো। সার্বিক বিবেচনা করে এই টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছি।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে স্পুিনক টিকা দেওয়া যাবে কি না— জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে, ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপ-তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো যারা অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তারা দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে অক্সফোর্ডের টিকাই নেবেন। এক প্রশ্নের উত্তরে মাহবুবুর রহমান বলেন, স্পুিনক টিকা আমদানি করা হবে সরকারিভাবে। এ বিষয়ে সরকারের একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ করে কত পরিমাণ আসবে, কত দাম হবে তা নির্ধারণ করে আমদানি করা হবে। দাম কী হবে তা ঠিক করবে সরকারের ঐ কমিটি।

বাংলাদেশে এই টিকা উত্পাদনের কোনো সুযোগ আছে কি না—জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা চলছে। বাংলাদেশে পপুলার, ইনসেপ্টা এবং হেলথকেয়ার টিকা তৈরি করতে পারে। ইনসেপ্টা রাশিয়ার সঙ্গে এরই মধ্যে কথাবার্তা শুরু করেছে। তারা বলেছে, আমাদের দেশে টিকা তৈরি করা যায় কি না। টেকনোলজি ট্রান্সফারও হতে পারে, আবার বিপুলসংখ্যায় এনে ফিলার ফিনিশও হতে পারে।’ শুধু স্পুিনক নয়, আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে টিকা নিয়ে কথা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চীনের সিনোফার্মার টিকার অনুমোদনের ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি। আমরা হয়তো খুব শিগিগর এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারব।’

করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় সরকার দেশের ১৩ কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে গত নভেম্বরে সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা আনতে চুক্তি করে সরকার। প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে এই টিকা আসার কথা ছিল চুক্তিতে। তবে জানুয়ারিতে প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ, ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় চালানে ২০ লাখ ডোজ মিলিয়ে ৭০ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া গেছে আরো ৩৩ লাখ ডোজ টিকা। ভারতে করোনা ভাইরাস মহামারি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।