খুলনায় করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন শিল্পী, কবি-সাহিত্যিকসহ সংস্কৃতিসেবীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান বিতরণ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর এই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত রবিবার থেকে আন্দোলনে নেমেছেন অনুদানবঞ্চিত প্রকৃত শিল্পী, কবি-সাহিত্যিকসহ সংস্কৃতিসেবীরা।
গত ২২ এপ্রিল খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে খুলনা জেলায় ২৯৭ জন কর্মহীন শিল্পী, কলাকুশলী ও কবি-সাহিত্যিকের অনুকূলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা করে মোট ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অনুদানপ্রাপ্তদের অধিকাংশই কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর একটি স্কুলে খুলনা জেলা লেখক-শিল্পী ঐক্য পরিষদের একটি সভায় প্রকৃত শিল্পী, কবি-সাহিত্যিকসহ সংস্কৃতিসেবীদের অনুদান প্রদান না করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মী শের আলী শেরবাগ, শেখ সিরাজুল ইসলাম, কামরুল কাজল, আইনুল্লাহ পারভেজ, নাসির আহমেদ, কৃষ্ণপদ গাইন, রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।
নগর নাট্যদলের নাট্য পরিচালক কামরুল কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন এবং অসহায়-দুস্থ শিল্পী, কবি-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের সহায়তায় প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু খুলনায় যে ২৯৭ জনের তালিকা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। রেডিও, বেতার, নাটক, আবৃত্তি ও সংগীত এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় জড়িত তাদের কেউ নেই। একইভাবে অনেকেই আছেন যারা আদৌ শিল্পীও নয়, তাদের তালিকাভুক্ত করে টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই পরিবারের দুজন অনুদান পেয়েছেন এমন ১২-১৪টি নাম রয়েছে এই তালিকায়। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি লুত্ফুন্নাহার পলাশী বলেন, ‘এই লিস্টে যারা আছেন, তাদের মধ্যে দু-তিন জন ছাড়া কাউকেই চিনি না। কারণ এরা বেশির ভাগই খুলনার বাইরের।’
এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা সুজিত কুমার সাহা বলেন, ‘গত বছর করোনা শুরুর প্রথম দিকেই আমরা তালিকা চেয়েছিলাম। যারা এখন আন্দোলন করছেন, তারা তালিকায় নাম দেননি। আমরা সঠিকভাবে অনুদান বণ্টনের চেষ্টা করেছি। আন্দোলনকারী কবি-সাহিত্যিকেরা আগে তো কখনো আসেননি। সেদিনও তারা আমার অফিসে আসার পর আমি তাদের কাছে তালিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু তিন-চার দিন হয়ে গেছে তারা এখনো তালিকা দেননি।
