পুলিশের উপ-কমিশনার বললেন

মুনিয়ার ডায়ারি মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ০১:০৪

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেছেন, মোসারাত জাহান
মুনিয়ার হাতে লেখা ছয়টি ডায়ারি তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য। পুলিশ ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার দেওয়ার চেষ্টা করছে। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহকে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মুনিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কেউ দোষী হলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। অন্যদিকে হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর।

মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী গতকাল বলেছেন, ঘটনার শিকার নারীকে হতাশা গ্রাস করেছিল, তিনি অনেক মনঃকষ্টে ছিলেন। ডায়ারির লেখায় মানসিক বিপর্যস্ততার প্রমাণ আছে। মানসিক বিপর্যয়ের মুখেই তাকে হয়তো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এই মামলায় ডায়ারি আদালতে জরুরি হবে।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, মামলা হয়েছে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায়। পুলিশ এ ঘটনায় যাবতীয় তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। বেশকিছু ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রাথমিক ধারণা মুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন। শরীরের অন্য কোথাও জখম বা আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ঝুলে থাকায় হাত-পা নীল হয়ে গিয়েছিল এবং কিছুটা ফুলে ছিল।

হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন আনভীরের

মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় ১৪ নম্বর ক্রমিকে তার আগাম জামিনের আবেদনটি শুনানির জন্য এসেছে।

অপরাধী যেই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গুলশান থানায় দায়ের হওয়া এই মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলেই বিস্তারিত বলা যাবে। তবে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তিনি যেই  হোন। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ

এদিকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটের বিষয়ে হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শারুন সাংবাদিকদের বলেছেন একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার কাছে মুনিয়ার সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চেয়েছে। তবে শারুন দাবি করেছেন, মুনিয়ার মৃত্যুর পর ফেসবুকে তার সঙ্গে কথোপকথনের যে স্ক্রিনশট ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

এদিকে মুনিয়ার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, মুনিয়ার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। তারা বলেন, এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঠিক বিচারের স্বার্থে এবং মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।