কয়েকদিনের টানা তাপদাহের পর অবশেষে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসকে মিছে করে দিয়ে বুধবার গভীর রাতে স্বস্তির বৃষ্টি নামে রাজধানীতে। সে সঙ্গে ছিল ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুতের ঝলকানি ও বজ্রপাতের নিনাদ। ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার উত্তর দিকের উপজেলাগুলো থেকেও। এসব এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া প্রবাহিত হয়। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। ঢাকায় সন্ধ্যা থেকেই গুমোট গরম আর আকাশ মেঘলা হয়ে যায়।
এদিন রাত ১১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীতে শুরু হয় ধূলিঝড়। প্রথমে বাতাসের গতিবেগ কম থাকলে আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে বাতাসের গতি। শো শো আওয়াজ জানান দেয় কালবৈশাখীর। এরপর শুরু দমকা হাওয়া সহ কোথাও কোথাও শুরু হয় বৃষ্টি। তীব্র তাপপ্রবাহের পর স্বস্তি বয়ে আনে এই শীতল বাতাস আর বৃষ্টি। এপ্রিল মাস জুড়েই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
রাতে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বিকেল থেকে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর জেলায় কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। রাতে গাইবান্ধা,সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর জেলায় কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, দেশব্যাপী বয়ে যাওয়া তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও রাতে দমকা হাওয়া এবং হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল, বগুড়া, কুমিল্লা ও কিশোরগঞ্জ জেলাসহ রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু এক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
এ প্রসঙ্গে রাতে আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান ইত্তেফাককে বলেন, দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রাতে ঢাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। বৃষ্টিপাত হয়। আজ বৃহস্পতিবার থেকে দিনের তাপমাত্রা হয়তো অপরিবর্তিত থাকবে কিন্তু রাতে তাপমাত্রা কমে আসবে। এ অবস্থা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এরপর বৈশাখী ঝড় আসবে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে।
আব্দুর রহমান খান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না থাকায় চলতি মৌসুমে অসহনীয় গরম অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যেই আবার দেশজুড়ে চলতি সপ্তাহ ধরে বয়ে গেছে মৃদু থেকে তীব্র দাবদাহ। তবে কালবৈশাখীসহ বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা আজ থেকে বাড়ছে। এর দাপট আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকবে।
তবে আগামীতে বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা যে বাড়বে, তাতে প্রাণহানি এড়াতে সবাইকে সতর্কও থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন এই আবহাওয়াবিদ।
আবহাওয়া অধিদফতরের গত ২৬ দিনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়েছে। এপ্রিলের তাপমাত্রা দিনের অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। কখনো কখনো দিনে রাতে সমান তাপমাত্রাও রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি থেকে ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এই পরিস্থিতি চলতি মাস পুরোটাই থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রাজশাহীতে, ৩৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ময়মনসিংহে ৩৫ দশমিক ৩, চট্টগ্রামে ৩৩ দশমিক ৮, সিলেটে ৩৪ দশমিক ৮, রংপুরে আজ ৩৪ দশমিক ১, খুলনায় ৩৬ দশমিক ৬, এবং বরিশালে আজ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদ থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অসহনীয় গরম বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আগে আভাস দিয়েছিল যে, রবিবারের আগে ঢাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি শুরু হলেই কমে যাবে গরম।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের নেত্রকোণা ও মৌলভীবাজারে বজ্রপাতে অন্তত তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন বিজিবি সদস্যও রয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
