নিরাপদ সড়ক

ফিটনেসবিহীন যানবাহন

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৭

রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন পূর্বশর্ত। সড়কব্যবস্থার উন্নয়ন বলতে শুধু সড়ক প্রশস্তকরণ, পাকা সড়ক বৃদ্ধি, নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ নয়। সড়কে জীবন ও মাল কতটা নিরাপদ তাও বিবেচ্য। সড়কে জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠলেই চোখের সামনে চলে আসে কালো রাজপথে পড়ে থাকা নিথর রক্তাক্ত দেহ। সড়কে প্রাণ হারানো বর্তমানে কোনো ঘটনাই নয়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমে যাওয়ার পর আগের মতো সাড়াও ফেলে না। ধরেই নেওয়া হয় প্রতিদিন সড়কে প্রাণ ঝরবে। প্রতিদিন একই সংবাদ গণমাধ্যমও প্রচার করতে করতে ক্লান্ত। পাঠকের আবেদন কমে যাওয়ায় গণমাধ্যম আগের মতো কাভারেজও দেয় না। কোনোদিন যদি সড়কে প্রাণ না ঝরে তবে সেটাই যেন আজ অস্বাভাবিক ঘটনার কাতারে পড়ে যায়। গণমাধ্যমগুলো সেই সংবাদ পরিবেশন করতে পারলেই খুশি হতো।

শুধু সড়ক প্রশস্ত করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা যাবে না। এটাও ঠিক যে সড়কের নির্মাণ ত্রুটির কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের সড়কে এমন যানবাহনকেও চলতে দেখা যায় যেগুলোর স্টিয়ারিং ঠিকমতো ঘুরে না। ব্রেক কাজ করে না। লুকিং গ্লাস নেই। যেগুলোতে আছে তা দিয়ে চারপাশে পুরোপুরি দেখা যায় না। হেডলাইট জ্বালালে একহাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট হয় না। ইঞ্জিনের বেহাল অবস্থা। আসনগুলোর বিন্যাস ঠিক নেই। অপরিপক্ব কারিগরের হাতে বানানো টিনের বডি। এমন যানবাহন নিয়েই চালকেরা প্রতিদিন সড়কে নামেন। দুর্ঘটনা ঘটান। যানবাহনের ফিটনেস বিবেচনায় অনেক সময় আমাদের দেশের চালকদেরকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দক্ষ চালক বলে মনে হয়। যানবাহনের এমন করুণ অবস্থা নিয়ে চালকেরা দিনের পর দিন সড়কে নামার সাহস করছেন এটাও কম কী!

সড়কে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের অনেক অবদান ম্লান হয়ে যেতে পারে। অনেক উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সড়কে প্রাণহানির কারণে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির পরিমাণ নেহাত কম নয়। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পথে পথে ঘুরছে অনেক পরিবার। অনেক পরিবার পঙ্গু স্বজনকে নিয়ে বিপাকে আছে। আমাদের কর্মক্ষম নাগরিকেরা অক্ষম হয়ে যাচ্ছে। যে ব্যক্তি কোনোদিন সামান্যতম সাহায্য গ্রহণ করতে চাইতেন না তিনি আজ অন্যের বোঝা হয়ে খাটের কোণায় পড়ে আছেন। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। রাজধানী ঢাকায় পুলিশের তত্পরতাও চোখে পড়ার মতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম হঠাত্ সমাধানের আশা করাটাও বোকামি। নিরাপদ সড়কের জন্য চাই দীর্ঘমেয়াদি নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম। বিশেষ করে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। তাত্ক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন জব্দ করতে হবে। ট্রাফিক সার্জেন্টদের আইনি ক্ষমতাবৃদ্ধি ও তারা যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ চাপের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে পারলে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সড়কে খুব দ্রুতই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়