কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ায় জিডি করেছে পুলিশ। কোম্পানীগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশের এসআই রিয়াদুল হাসানকে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাতে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা তার অনুসারী হামিদের মুঠোফোন থেকে এ হুমকি দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি ও হুমকিপ্রাপ্ত এসআই রিয়াদুল হাসান গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলছেন না। তবে বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি তো অনেক লোককেই হুমকি দেন, ওসিকে কত উল্টাপাল্টা কথা বলেন। এটা নতুন কিছু নয়। এ রকম ঘটনা কোম্পানীগঞ্জে অনেক। জিডি একটা করে রেখেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা তার অনুসারী হামিদের মুঠোফোন থেকে এসআই রিয়াদুলের মুঠোফোনে কল দেন। রিয়াদুল কল রিসিভ করার পর হামিদ ফোনটি মেয়র কাদের মির্জার হাতে দেন। মেয়র ফোন নিয়ে বলেন, ‘আমি মেয়র বলছি। এই, তোর বাড়ি কই?’ তখন রিয়াদুল বলেন, ‘আমার বাড়ি দিয়ে আপনি কী করবেন?’ তখন মেয়র উত্তেজিত হয়ে তার অনুসারী মিকন, রাজুসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের কেনো ধরা (গ্রেফতার) করা হলো, সে অভিযোগ করেন।
একপর্যায়ে মেয়র কাদের মির্জা বলেন, ‘অডা (এই বেটা) তুই কন্তুন অইছত (কোথায় থেকে বের হয়েছ)? এত বড় হনু (ক্ষমতা)! আমার লোকজনরে ধমকাইবি, তোর বিপদ আছে। তোরে অ্যাঁই দেখি নিমু, কই দিলাম (বলে দিলাম তোমাকে আমি দেখে নেব)।’ এরপর মেয়র নিজেই ফোন কেটে দেন। ওই সূত্র জানায়, মেয়র ফোন কেটে দেওয়ার পর এসআই রিয়াদুল বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত ও আলোচনা করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এদিকে থানা-পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, কোম্পানীগঞ্জে চাকরি করতে এসে গত কয়েক মাসে তাদের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা এর আগে কোনো কর্মস্থলে হয়নি। কোথায়ও কোনো নেতার মুখ থেকে এভাবে পুলিশ সদস্যদের নাম ধরে অশ্লীল এত কথা তাদের শুনতে হয়নি। এখানে মানসম্মান নিয়ে চাকরি করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। থানার এসআইকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কাদের মির্জার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
ইত্তেফাক/এসজেড

