আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই অনেক মজার ঘটনা আছে। স্কুলে বন্ধুদের সাথে কিংবা কোনো পার্টিতে কিংবা যে কোনোভাবে ঘটে যাওয়া সেইসব ঘটনা সারাজীবন আমাদের আনন্দ দেয়। তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছ—যাঁরা বিশ্ববিখ্যাত মানুষ, আমাদের মতো তাঁদের জীবনেও কি কখনো কোনো মজার ঘটনা ঘটেছে, নাকি তাঁদের জীবনটা শুধুই জ্ঞান-বিজ্ঞান দিয়ে ভরা? আসলে তাঁদের জীবনের মজার ঘটনাগুলো সবার কাছেই মজার। তেমনই কিছু মজার ঘটনা তোমাদের শোনাবেন ছোটদের বন্ধু—জাজাফী
আইনস্টাইন বাসায় নেই!
তোমরা নিশ্চয়ই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের নাম শুনেছ। ক্লাসে কেউ খুব জ্ঞানের কথা বললেই তোমরা অনেক সময় তাকে আইনস্টাইনের সঙ্গে তুলনা কর। তোমরা হয়তো ভাবতে পার আইনস্টাইন কখনো কিছু ভুলতেন না। কিন্তু তোমরা কি জানো এই অসম্ভব জ্ঞানী মানুষটিও মাঝে মাঝে ভুলোমনা হয়ে যেতেন। একবার তিনি একটা সেমিনার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে যেতে যেতে তিনি কিছু একটা বিষয়ে চিন্তা করছিলেন। ভাবতে ভাবতে একসময় তিনি তাঁর নিজের বাড়িতে এলেন এবং দরজায় কড়া নাড়লেন। ভেতর থেকে আইনস্টাইনের স্ত্রী জবাব দিলেন—আইনস্টাইন বাসায় নেই, পরে আসুন। তখন আইনস্টাইন ভাবলেন, বাড়ির কর্তা যেহেতু বাড়িতে নেই তাই এখানে অপেক্ষা করার কোনো মানে নেই—এটা ভাবতে ভাবতে তিনি আবার চলে গেলেন। তাহলে ভাবো যে তিনি তখন কত গভীরভাবে চিন্তামগ্ন ছিলেন।
তারার বই
বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সাগান যখন তোমাদের মতো ছোট তখন একদিন লাইব্রেরিতে গেলেন। লাইব্রেরিয়ানের কাছে তিনি তারার ওপরে কোনো বই আছে কি না জানতে চাইলেন। লাইব্রেরিয়ান জিজ্ঞেস করল, ‘তারার বই? ছবিসহ? অবশ্যই আছে। লাইব্রেরিয়ান অনেক খুঁজে একটা মোটা বই কার্ল সাগানকে দিল। ছোট্ট সাগান খুশি মনে বাসায় এসে বই খুলল। তারার বইই বটে! হলিউডের চিত্রতারকাদের নিয়ে লেখা বই। অথচ তিনি চেয়েছিলেন আকাশে যে তারা দেখা যায় সেই তারা নিয়ে লেখা বই।
আইনস্টাইনের বাসার খোঁজে
তোমরা কি কেউ কখনো নিজেদের বাসার ঠিকানা ভুলে গিয়েছ? বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন একবার নিজের বাসার ঠিকানা ভুলে গিয়েছিলেন! কী আর করা বাসায় তো ফিরতে হবে তাই তিনি সন্ধ্যাবেলায় প্রিন্সটনের ডিটেক্টর বাড়িতে ফোন করলেন, ‘দয়া করে যদি আইনস্টাইনের বাড়ির নম্বরটা জানান!’ ডিটেক্টর বললেন, আইনস্টাইনের বাড়ির নম্বর কাউকে জানানো হবে না। এই বলে ফোনটা নামিয়ে রাখলেন। কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন বেজে উঠল। ওপাশ থেকে শোনা গেল, ‘আমি আইনস্টাইন বলছি, বাড়ির নম্বর আর রাস্তা দুটোই ভুলে গিয়েছি। যদি দয়া করে বলে দেন।’
নিউটনের বন্ধু
এক রাতের ঘটনা। নিউটন তাঁর এক বন্ধুকে দাওয়াত করেছিলেন। অথচ তিনি একদম ভুলে গিয়েছিলেন। গণিতের এক জটিল সমস্যা সমাধানে তিনি গভীর মগ্নতায় ডুবে ছিলেন। বন্ধুটি যথাসময়ে এসে তা লক্ষ করলেন। ফলে চুপচাপ বসে রইলেন তাঁর অপেক্ষায়। বেশ কিছুক্ষণ পর খাবার এল। শুধু একজনের খাবার। বন্ধুটি মনে করলেন, তাঁর জন্যই এ খাবার আনা হয়েছে। বন্ধুটি নিউটনকে বিরক্ত না করে চুপচাপ খাবার খেয়ে ফেললেন। এর কিছুক্ষণ পর গণিতের সমাধান শেষ করে বন্ধুর দিকে তাকিয়ে তো রীতিমতো অবাক। এবার তাঁর খেয়াল হলো, বন্ধুকে দাওয়াত করার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। খাবারবিহীন প্লেটের দিকে নজর পড়তেই বন্ধুকে বললেন, ‘ভাগ্যিস তুমি এসেছো। নইলে তো বুঝতেই পারতাম না যে আমি এখনো খাইনি।’ এই ছিল আত্মভোলা নিউটনের মজার কাণ্ড।
নিজের নাম ভুলে যাওয়া
তোমরা নিশ্চয়ই জানো বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করেছিলেন টমাস আলভা এডিসন। এই বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিজেও ছিলেন ভুলোমনা স্বভাবের। কতটা ভুলোমনা তা শুনলে তোমাদের চোখ কপালে উঠবে। অবশ্য হাসিও পাবে। তোমরা শুনলে বিশ্বাস করবে না টমাস আলভা এডিসন একবার তাঁর নাম ভুলে গিয়েছিলেন। ট্যাক্স জমা দেওয়ার জন্য ট্যাক্স অফিসে গিয়ে তিনি কিছুতেই তাঁর নাম মনে করতে পারছিলেন না। ভাগ্য ভালো সেই সময়ে ট্যাক্স দিতে তাঁরই এক প্রতিবেশী ওখানে গিয়েছিলেন। ট্যাক্স অফিসে তিনি এডিসনকে দেখে বললেন, ‘আরে এডিসন না?’ তখন তাঁর নিজের নাম মনে পড়ল। এবং ট্যাক্স ফর্মে লিখলেন, আমার নাম টমাস আলভা এডিসন!
