বিশ্ব জুড়ে টিকা নিয়ে যে সংশয় দেখা দিয়েছে তা নিরসনে পিজিপি, (দ্য পাবলিক গুড প্রজেক্টস), ইউনিসেফ ও ইয়েল ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ গতকাল ‘ভ্যাকসিনেশন ডিমান্ড অবজারভেটরি’ চালু করেছে।
চলমান মহামারিতে ‘ইনফোডেমিকের’ (সঠিক তথ্য ও ভুল তথ্যের দ্বিধাময় মহামারি) কারণে জনসাধারণের মাঝে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। সব টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য ও অবিশ্বাসের প্রভাব কমাতে ভ্যাকসিনেশন ডিমান্ড অবজারভেটরি (দ্য অবজারভেটরি) দেশের অভ্যন্তরে থাকা কর্মীদের সঠিক উপকরণে সজ্জিত করার জন্য সরঞ্জাম তৈরি, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ও গবেষণা করছে। এই কর্মসূচি তিনটি স্তম্ভের ওপর ভর করে সংগঠিত হয়েছে: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত বিশ্লেষণ এবং সে সম্পর্কে মতামত প্রদান, সমস্ত ভ্যাকসিন-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা কর্মসূচি এবং একটি যোগাযোগ ল্যাব।
তথ্যগত শূন্যতা পূরণে সম্পৃক্ততামূলক, প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট তৈরি করতে ‘দ্য ভ্যাকসিন অ্যাকসেপট্যান্স ইন্টারভেনশন ল্যাব’ (ভিএআইএল) আচরণগত ও সামাজিক গবেষণা ব্যবহার করবে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে থেকে তথ্য নেবে। ভিএআইএল টিকা-সংক্রান্ত ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে গিয়ে মানুষকে টিকা দিতে ‘টিকাদান’ বার্তাও চালু করবে। বাস্তবায়নের আগে বার্তার ভাষা, কার্যবিধি এবং আচরণ পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জানতে কনটেন্ট ও কর্মসূচিগুলো দ্রুত মাঠপর্যায়ে পরীক্ষাও করা হবে।
ইউনিসেফের সিনিয়র সমাজ বিজ্ঞানী ড. অ্যাঙ্গাস থমসন পিএইচডি বলেছেন, ‘তীব্র উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তার এই সময়ে টিকা সম্পর্কে মানুষের অত্যন্ত যৌক্তিক অনেক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে। তবে তথ্যের বিশাল শূন্যতা এবং ভুল বা অসত্য তথ্যের কারণে উত্তরের খোঁজে তাদের অনুসন্ধানগুলো তালগোল পাকিয়ে ফেলতে পারে। আমরা যদি আগে এই উদ্বেগগুলো বুঝতে না পারি তবে আমরা তাদের উদ্বেগের সমাধান করতে পারব না। এরপর আমাদের অবশ্যই মানুষের কাছে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ তা জানতে তাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আর এটি করতে দেশগুলোর ক্ষমতায়নে এই ‘অবজারভেরি’ সহায়তা করবে।’
