পুরোদমে এলএনজি সরবরাহ শুরু

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫৭

অবশেষে আমদানিকৃত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রূপান্তর করে পুরোদমে সরবরাহ শুরু হয়েছে। গত আগস্টে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো দেশের একমাত্র ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির সক্ষমতার পুরোটুকু ব্যবহার করা হয়।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির মালিকানাধীন ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ ক্ষমতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং এটি পরিচালনাও করছে তারা। ২০১০ সালে প্রকল্পটি গ্রহণের পর দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ছয় বছর পর গত বছরের ১৮ আগস্ট এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের গ্যাস সংকট দূর করতে ব্যয়বহুল হলেও এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অথচ দীর্ঘ অপেক্ষার পরও প্রকল্পটির সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে না পারায় জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি শিল্প খাতের উদ্যোক্তারাও হতাশা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান,  চুক্তি অনুযায়ী ৫০ কোটি ঘনফুট ক্ষমতার টার্মিনালটিতে পুনঃগ্যাসীকরণ যতটুকুই হোক না কেন এক্সিলারেট এনার্জিকে পুরোটার জন্যই ক্যাপাসিটি চার্জ বা সক্ষমতা মাসুল দিতে হয়   পেট্রোবাংলাকে। এখন গ্রাহক পর্যায়ে অতিরিক্ত মাসুল টানতে হবে না। এলএনজিসহ দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩০৮ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। এলএনজি থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট রূপান্তরিত গ্যাসের ৩১ কোটি ঘনফুট চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরবরাহ করছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল)। এটি মোট এলএনজির ৭০ শতাংশ। ১৫০ কোটি ঘনফুট তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি ৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম দিকে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় পুরো সক্ষমতা অনুযায়ী এলএনজি গ্রহণ ও গ্যাসের রূপান্তর করা যায়নি। এরপর গত ২৭ নভেম্বর পাইপলাইন সম্পন্ন হওয়ার পর এলএনজি আমদানি না হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ করা যায়নি। এ সময় কিছুটা আর্থিক টানাপোড়েনও ছিল। এলএনজি প্রকল্পের তদারককারী আরপিজিসিএল এবং পাইপলাইন নির্মাতা জিটিসিএল’র মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। টার্মিনাল ব্যবহার চুক্তি অনুযায়ী, ভাসমান টার্মিনালের সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করুক বা না করুক পেট্রোবাংলাকে প্রতি দিন ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ২ লাখ ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২ কোটি টাকা) পরিশোধ করতে হয় এক্সিলারেট এনার্জিকে। গত শুক্রবারের পূর্ব পর্যন্ত পেট্রোবাংলা সক্ষমতার সর্বোচ্চ ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছিল।