বিশ্বের সুপারপাওয়ার আমেরিকা ফিরছে?

আপডেট : ০২ মে ২০২১, ২১:৫২

শিফারুল শেখ

 

ক্ষমতার ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ উপলক্ষ্যে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাষণও দিয়েছেন। ৬৫ মিনিটের ভাষণের বেশির ভাগ জুড়েই যদিও ছিল অভ্যন্তরীণ নীতিবিষয়ক কথা তবুও তিনি আমেরিকার সীমান্তের বাইরের কথাও বলেছেন। তিনি বৈশ্বিক নেতৃত্বে আমেরিকা আবার ফিরছে বলে জানিয়েছেন। তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি চীনকে নিয়েই বেশি কথা বলেছেন। তার ভাষণে এসেছে রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার প্রসঙ্গও। তবে আমেরিকাকে সুপারপাওয়ার হিসেবে পুনরায় ফিরিয়ে বাইডেন কতোটা প্রস্তুত তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

যে বার্তা দিলেন বাইডেন: আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে যারা ভাবেন তাদের কাছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভাষণ ছিল আশার। গত চার বছরে এই প্রথম পররাষ্ট্রনীতিকে এতো গুরুত্ব দিলেন প্রেসিডেন্ট। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে আমেরিকা বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে পিছিয়ে পড়েছিল বলে সমালোচনা আছে। এমনকি আমেরিকায়ই একটা বড় ধরনের বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প যা পুনরুদ্ধারে বাইডেনকে কাজ করতে হচ্ছে। গত চারটি বছর ছিল বিশ্বের স্বৈরশাসকদের সুবর্ণ সুযোগ। বাইডেন এখন সেখানে গণতন্ত্রকে রক্ষায় আবার সচেষ্ট হয়েছেন। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে আবার হাত মেলাচ্ছেন। তিনি আমেরিকার প্রতি বিশ্বাস বাড়াতেও সচেষ্ট হয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন চীন প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তার শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে। ইউরোপে ন্যাটোর ক্ষেত্রে যেমনটি করা হয়েছে এখানেও সেই কাজটিই করবে আমেরিকা। তবে কোনো সংঘাত নয়, সংঘাত প্রতিরোধের জন্য। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মতে, চীন এবং অন্য স্বৈরশাসকরা ধরে নিয়েছেন যে, একবিংশ শতাব্দীতে গণতন্ত্র কার্যকর হবে না।

বাইডেন বলেছেন, চীন ও অন্য দেশগুলো দ্রুতই উন্নতির শিখরে উঠে আসছে। ভবিষ্যতে আমেরিকাকে বিভিন্ন পণ্য ও প্রযুক্তিতে উন্নতি করার পাশাপাশি আধিপত্যও বজায় রাখতে হবে জানিয়ে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাটাই যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে বাইডেন বারবার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীনের যে অন্যায় বাণিজ্যের কারণে মার্কিন কর্মীরা এবং শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা আমেরিকা রুখে দাঁড়াবে। মানবাধিকার ও বাণিজ্যে অসমতার মতো বিভিন্ন ইস্যুতে চীনকে চাপে রাখার জন্য বাইডেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই পক্ষকেই ব্যাপক পরিসরে বেশ কিছু আইন পাশের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়টিও বাইডেন তার ভাষণে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কিংবা সরকারি অথবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার পরিণতি মস্কোকে ভোগ করতে হবে। ট্রাম্পের একলা চলো বৈদেশিক নীতি থেকে সরে এসে বাইডেন বলেছেন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় তিনি মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবেন। তিনি বলেন, আমেরিকান নেতৃত্ব মানে হচ্ছে চিরকালের জন্য আফগানিস্তানে যুদ্ধ বন্ধ করা।

কতোটা প্রস্তুত আমেরিকা?: আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মারওয়ান বিশারার মতে, বাইডেন উদার আন্তর্জাতিকতাবাদীর মতোই বক্তব্য দিয়েছেন। আবার বাস্তববাদীও। তার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক দল বাস্তববাদী এবং ব্যয়ের দিকে লক্ষ্য রেখেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য একটা বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করেছে।