বিদেশে উচ্চ শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান মেইসেস নিয়ে সফল :টিনা সালেম মনজুর

আপডেট : ০২ মে ২০২১, ২১:৫৫

  মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

 

ভিনদেশে পড়তে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য কোভিড-১৯ বেশ প্রভাব ফেলেছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী বহির্বিশ্বে পড়াশোনা করতে যাচ্ছে। যারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ খুঁজছেন তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান মেইসেস হিসেবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে আসছে। আজকের আয়োজনে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার টিনা সালেম মনজুর।

টিনা এবং তার জীবনসঙ্গী উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন বলেই বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে এ সমস্ত বিষয়ে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন কারো সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই এক বার হলেও ভিনদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া উচিত। শিক্ষার্থী সেখানে আসলে শুধু পড়াশোনাই শিখে আসে না বরং নিজেকে সব দিক থেকে স্বাবলম্বী করতে শেখে। নিজের কাজ নিজে করা, পরিমিত বাজেটে খাপ খাইয়ে নেওয়া, ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া, প্রবাস জীবনে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা মিলে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে তাদের।

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আসলেই শুরুর গল্পটা মসৃণ ছিল না, তবে পাশে পেয়েছেন পরিবারকে। মেইসেসের শুরুটা হয়েছিল তার বাড়িতেই একটি অতিরিক্ত ঘরকে অফিসের রূপ দিয়ে। প্রথম বারের মতো মাত্র দুই জন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ২০০৭ সালের মে মাসে মেইসেসের যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে ছয়টি দেশের প্রায় ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমি এমন পরিবারে বড় হয়েছি যেখানে আমি জেনেছি মানুষ চাইলেই সব পারে। সুতরাং, আমার কখনই আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হয়নি, যার ফলস্বরূপ আমার লক্ষ্যগুলোতে সহজে পৌঁছাতে পেরেছি।’

মহামারির ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিসট্যান্ট লার্নিংয়ের কনসেপ্টে যাওয়ায়, অনলাইনে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটা বিষয় ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রতিক্রিয়াটি তারা সাদরে গ্রহণ করেছে। টিনার নেতৃত্বে মেইসেস ছাত্রদের জন্য বৃত্তি ও ভর্তি ফি কমানোর ব্যবস্থা করেছে। তিনি জানান, তারা অন্য দেশের, বিশেষত যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতার মাপকাঠিতেও কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। তবে, এই শিল্পে এখনো কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা নেই। তিনি আশা করেন সরকার থেকে আমাদের জন্য কিছু গাইডলাইন থাকবে, সংস্থা গঠন আইন থাকবে। এই সেবা দেওয়ার কিছু নির্দিষ্ট রীতিনীতি থাকবে। এটি শিক্ষার্থীদের প্রতারণার স্বীকার না হবার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

এই খাতে কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে টিনা বলেন, ‘এটি কোনো পণ্য নিয়ে কাজ করার মতো সেক্টর নয়, এটি মূলত একটি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিষেবা। আপনাকে আপনার মানসিকতা স্পষ্ট ও বিস্তৃত করতে হবে কারণ, একটি সামান্য ভুলও কারো জীবন নষ্ট করতে পারে। তাদের জীবনের একটি ছোট অংশ হিসেবে এই বদলানোর কারিগর হিসেবে এটি কাজের একটি অত্যন্ত সফল ও সুন্দর ক্ষেত্র। আপনি কাউকে তাদের জীবন পরিবর্তনের প্রক্রিয়াতে সহায়তা করতে পারেন।’