বাজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য প্রণোদনার দাবি

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ০০:৪৫

করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের জন্য বাজেটে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য বাজেটে অতীতের মতো পৃথক অনুচ্ছেদ যুক্ত করে নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। বাজেট বক্তৃতা ছোট হলেও একটি প্যারাগ্রাফে নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ে বিবরণী থাকতে হবে। গতকাল ‘নৃগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এই দাবি জানিয়েছেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নৃ-গোষ্ঠী নেতা সঞ্জীব দ্রং।

মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, সমতলের নৃ-গোষ্ঠীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্রতিবছর বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা নামে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত কয়েক বছর ধরে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সমতলভূমিতে বসবাসরত নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক মানউন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এই ধরনের স্বতন্ত্র, সুনির্দিষ্ট ও সরাসরি বাজেট বরাদ্দ আরো বেশি হওয়া উচিত। অনুষ্ঠানে বলা হয়—দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়লেও নৃ-গোষ্ঠী মানুষের দারিদ্রের হার বেড়ে গিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। রাঙ্গামাটি আর বান্দরবানে এই দারিদ্র্যের হার যথাক্রমে ৬৪ শতাংশ এবং ৬৩ শতাংশ। সমতল অঞ্চলের দিনাজপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে দরিদ্র হার ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। মাথাপিছু আয় জাতীয় গড় আয় থেকেও অনেক কম। সমতলের দুই-তৃতীয়াংশ নৃ-গোষ্ঠী ভূমিহীন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপমা দেওয়ান, চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মত্ হামিদা বানু বেগম, পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ এমপি এবং রাশেদ খান মেনন এমপি। সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।