মমতাই মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ০০:৫৪

বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এই বড় আনন্দের মধ্যেও অস্বস্তির মুখে পড়েছে দলটি। কারণ নন্দীগ্রামের নির্বাচনের ফল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে সেখানে হারলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা ব্যানার্জিই।

গতকাল ভোট গণনার শুরুর দিক থেকেই নন্দীগ্রাম আসনে এগিয়ে ছিলেন মমতা ব্যানার্জির একসময়ের শিষ্য বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কখনো তিনি এগিয়ে যান, আবার কখনো এগিয়ে যান মমতা ব্যানার্জি। এর মধ্যে বিকালে ঘোষণা আসে যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নন্দীগ্রাম আসনে ১ হাজার ২০১ ভোটে জিতেছেন। পরে জানানো হয়, গণনার ১৭ এবং শেষ রাউন্ডে কিছু ভুল হয়েছিল। মমতা ব্যানার্জি ১ হাজার ৯৫৩ ভোটে হেরে গেছেন। এ ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ভোট গণনায় নানা ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করা হচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে সেখানে নতুন করে ভোটের গণনা দাবি করা হয়েছে। এরই মধ্যে শুভেন্দু জয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। তবে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শুভেন্দু ১ হাজার ৯৫৪ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জি হারলে তার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে কোনো বাধা নেই। ছয় মাসের মধ্যে কোনো আসন থেকে উপ-নির্বাচনে তাকে জয়ী হলেই হবে। ভারতে নির্বাচনি নিয়ম অনুযায়ী শপথ গ্রহণের ছয় মাস পর্যন্ত বিধানসভা বা লোকসভার সদস্য না হয়েও মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে ঐ ছয় মাসের মধ্যে তাকে রাজ্যের ক্ষেত্রে বিধানসভা এবং ভারতের সরকার গঠনের জন্য লোকসভা বা বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।

২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস যখন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল, তখনো মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের এমএলএ ছিলেন না। পরে উপনির্বাচনে জেতেন তিনি। ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ যখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন তখনো তিনি উত্তরপ্রদেশের এমএলএ ছিলেন না। তিনিও পরে উপনির্বাচনে জেতেন।