ডাইং ফ্যাক্টরিতে ব্যবহারের জন্য আনা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’ খাবারের লবণ হিসেবে বিক্রি করছে নারায়ণগঞ্জের একটি সিন্ডিকেট। চিকিত্সকরা বলছেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ খেলে কিডনি, লিভারসহ শরীরের নানা অঙ্গ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এদিকে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’ খাবারের লবণ হিসেবে বাজারজাত হওয়ায় বিক্রি হচ্ছে না দেশে উত্পাদিত লবণ। এ ভরা মৌসুমেও নারায়ণগঞ্জের লবণ মিলগুলো চলছে খুঁড়িয়ে খুুঁড়িয়ে। আয় কমে গেছে এখানকার লবণ শ্রমিকদের।
নারায়ণগঞ্জ লবণ আড়তদার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোতালিব মিয়া স্বপন বলেন, দেশে লবণ ঘাটতি হলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘাটতির পরিমাণ নির্ধারণ করে মিলগুলোকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। গত বছর দেশে পর্যাপ্ত লবণ উত্পাদন হয়েছে। তাই এ বছর দেশে কোনো লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু দেশের বিভিন্ন শিল্প কারখানার জন্য বিশেষ করে ডাইং কারখানার জন্য লবণ আমদানির অনুমতি রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি লবণ মিল মালিকের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট শিল্প কারখানায় ব্যবহূত এ লবণ এনে খাবার লবণ হিসেবে বাজারজাত করছে। নারায়ণগঞ্জ লবণ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর হক লিপন জানান, দেশি লবণ উত্পাদন করার পর এটির রং থাকে লালচে। মিলে এটি পরিশোধন করার পর এটির রং হয় সাদা। ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ বা গ্লোবাল সল্ট এর সুবিধা হচ্ছে এটি দেখতে পরিশোধন করা খাবার লবণের মতোই সাদা। তাই এটি আমাদানি করার পরপরই বস্তা খুলে ছোট ছোট প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করা যায়। লবণ মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা জানান, খাদ্য লবণ হচ্ছে সোডিয়াম ক্লোরাইড। এটি সম্পৃক্ত পানি দিয়ে পরিশোধন করা হয়। এটি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর না। কিন্তু চীন থেকে শিল্প কারখানার জন্য যে লবণ আনা হচ্ছে তা হচ্ছে সোডিয়াম সালফেট। যেটি এসিড দিয়ে পরিশোধন করা। এটি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো: এহসানুল হক জানান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ খেলে কিডনি, লিভারসহ শরীরের নানা অঙ্গ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট বাজারে প্যাকেটজাত করে বিক্রির অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ইতোমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা আদায় করেছেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই, বিসিক যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে এসব রোধে।
