নাটক ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ২১:৪১

নির্মাতা পরিচয়ের বাইরে এরইমধ্যে অভিনেতা পরিচয়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন শরাফ আহমেদ জীবন। দুই মাধ্যমে সমান ব্যস্ত থাকা এই নির্মাতা নিজের পরিকল্পনা ও ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল 

বর্তমান কাজ সম্পর্কে জানতে চাই—

করোনার কারণে ঈদ নাটক নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে রায়হান ও পলাশের দুটি নাটকে অভিনয় করছি। এছাড়া বিজ্ঞাপন নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ততা চলছে।

নির্মাণের পাশাপাশি অভিনয়েও প্রশংসিত হয়েছেন। কোন মাধ্যমটিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

আসলে দুটি মাধ্যমই আমার স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা। দুটি কাজকেই আমি আলাদাভাবে দেখি না। দুটিই তো ক্রিয়েটিভ কাজ!

ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকে আপনার বোরহান চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই জনপ্রিয়তার অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করবেন?

এটা অন্যরকম ভালোলাগা। ক্যামেরার পেছনে কাজ করলে হয়তো কাছের মানুষগুলো প্রশংসা করে। কিন্তু পর্দায় এলে অনেকেই চেনে, দেখা হলেই বলে ‘বোরহান’ ভাই! শুনতে মজাই লাগে।

ব্যাচেলর পয়েন্ট প্রশংসিত হলেও নাটকটি নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। নাটকটির অভিনেতা হিসেবে এটাকে কীভাবে দেখছেন?

এটা নিয়ে কী সমালোচনা হয়েছে সেটা আমি জানি না। এই নাটকটি ছাড়া অন্য কোনো নাটকে কী এমন সংলাপ নেই! কই সেগুলো নিয়ে তো সমালোচনা হয়নি। আসলে ব্যাচেলর পয়েন্ট জনপ্রিয় হয়েছে বলেই এমন সমালোচনা হচ্ছে। দু’জন কলেজ স্টুডেন্ট তো আড্ডা দিলে সবই সভ্য কথা বলবে না। তাদের চরিত্র তুলে ধরলে তো সেভাবেই উপস্থাপন হবে।

এক সময় নিয়মিত নাটক নির্মাণ করলেও এখন সেভাবে নির্মাণে দেখা না যাওয়ার কারণ কী?

বিজ্ঞাপনের কারণে নাটক কম নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১০ সালের পর থেকেই বিজ্ঞাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন বছরে দু-একটি নাটক নির্মাণ করলেও সেগুলো প্রডাকশনাল নাটক হয়। কারণ সেখানেও বিজ্ঞাপন থাকে, বাজেট বেশি পাওয়া যায়। আর বাজেট পেলে কাজটিও মনের মতো করে করা যায়।

ওটিটি মাধ্যম নিয়েও এরইমধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন এটা আমাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে। আপনি কী মন্তব্য করবেন?

সময়ের সঙ্গে মাধ্যম পরিবর্তন হবে এটাই স্বাভাবিক। এই মাধ্যমটি নিয়েও আমার কাজের প্লান চলছে। এই মাধ্যমটিতে কাজের সুযোগও অনেক বেশি। তবে আমি বলবো সুযোগের অপব্যবহার করা যাবে না। আমি নিজেও অশ্লীলতাকে সমর্থন করি না। আর এটা আমাদের জন্য অভিশাপ না আশীর্বাদ সেটা নির্ভর করবে আপনার ব্যবহারের ওপর। আপনার রুচিবোধ ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার ওপর।

উন্মুক্ত মাধ্যম ও ভিউ বাণিজ্যের কারণে নাটকের সৃজনশীলতা নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন না?

নিশ্চয় সৃজনশীলতা নষ্ট হচ্ছে। নাটক ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। উন্মুক্ত মাধ্যম পেয়েছেন বলে যে, আপনি যা খুশি তা নির্মাণ করবেন, এটা ঠিক না। পরিবার, সমাজ, দেশ এবং সংস্কৃতির কাছে যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই নির্মাণ করা উচিত।

দিনদিন নাটকে চরিত্র সংকট প্রকট হচ্ছে। এতে একটি গল্প সঠিকভাবে তুলে ধরা কতটা সম্ভব হচ্ছে?

নাটক এখন একটা শ্রেণির চলে গেছে। তারা বাজেট কম দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পছন্দের শিল্পী নিয়ে কাজ করাতে চান। এতে কম চরিত্র নিয়ে কাজ করতে নির্মাতা বাধ্য হচ্ছেন। চরিত্র যত কম হবে ততই একটি গল্প তার স্বকীয়তা হারাবে। একটা সময় দর্শকরাও মুখ ফিরিয়ে নেবে।

এখন পরিচালক নন, ভিউগোনা স্টাররাই চালকের আসনে আছেন। এটা একজন নির্মাতার জন্য অপমানের কারণ হচ্ছে কি-না?

এখানে কারো কাজটি ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। একজন ক্যামেরার পেছনে, আরেকজন সামনে থেকেই শৈল্পিক কাজটি করে থাকেন। তবে হ্যাঁ, পরিচালক যেহেতু পেছনে থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন সেহেতু তাকে সম্মান করাটাই শ্রেয়। একটা সময় সেটা করা হতো। কারণ তখন শিক্ষিতরা কাজ করতো। এখন তার উল্টো হয়েছে।

চলচ্চিত্রের এই সংকটময় সময়ে আপনি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট প্রথম চলচ্চিত্রে প্রভাব ফেলবে মনে করছেন না?

আমাদের দেশের মার্কেট হিসেব করে গল্প নির্বাচন করতে হবে এবং সেই অনুপাতে বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। আবার লগ্নিকৃত অর্থ কীভাবে উঠে আসবে সেটাও আগে ভাবতে হবে। এখন বিভিন্ন মাধ্যম এসেছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে হবে। আমার মনে হয় এই কাজগুলো সম্পর্কে আমার সম্মুখ ধারণা রয়েছে।