দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ বন্দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসার আগেই কোয়ারেন্টাইনের সনদ প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, আমদানি অনুমতি (আইপি) জাল করে পেঁয়াজ আমদানির কারণে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ২৩ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ আটক করা হয়েছে। আটককৃত পেঁয়াজের পরিমাণ ৭০০ মেট্রিক টন। যার শুল্ক করের পরিমাণ ১৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
রোববার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্দর শুল্ক বিভাগ রোববার অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ট্রাকভর্তি এসব পেঁয়াজ আটক করে। আটক পেঁয়াজগুলো বর্তমানে বন্দর ইজারাদার পানামার ইয়ার্ডে রয়েছে।
এদিকে, বন্দর কাস্টমস বলছে, ঘোষণা অনুযায়ী এসব পণ্য প্রবেশের জন্য আমদানি অনুমতির (আইপি) মেয়াদ ছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। আর কোয়ারেন্টাইন সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। অন্যদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর কোয়ারেন্টাইন বিভাগ বলছে, বন্দরে পণ্য প্রবেশের পর পণ্য দেখে কোয়ারেন্টাইন সনদ প্রদান করা হয়। কিন্তু বন্দরে কোনো পেঁয়াজ প্রবেশ না করার আগে কীভাবে এই সনদ দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বন্দরসংশ্লিষ্ট ও অন্যান্য পেঁয়াজ আমদানিকারকদের মধ্যে। সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগের পরিদর্শক পীযুষ কুমার বিশ্বাস জানান, বিএইচ ট্রেডিং নামের একটি ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট কাম আমদানিকারক রোববার ২৩ ট্রাক পেঁয়াজ আনেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। ঘোষণা অনুযায়ী এসব পণ্য প্রবেশের জন্য আমদানি অনুমতির (আইপি) মেয়াদ ছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
তিনি জানান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক আইপি (ইমপোর্ট পারমিশন) জাল করে বন্দরে পেঁয়াজগুলো নিয়ে আসেন। আইপিতে গরমিল থাকায় শুল্ক বিভাগ ২৩ ট্রাক পেঁয়াজ ছাড়করণে আপত্তি করে। তারা পেঁয়াজগুলোর আমদানির কাগজপত্র খতিয়ে দেখে আইপি জালের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বন্দরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দেশি পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৬ জানুয়ারি ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ শতাংশ ছাড় শুল্কে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র দেওয়া বন্ধ করে। তবে এ ঘোষণার আগেই যেসব আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানির আইপি পেয়েছিলেন তাদের পেঁয়াজ বন্দর দিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি।
আমদানিকারক দুরুল হাসান বাবুলের আমদানি অনুমতিপত্রের মেয়াদ ছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে, তিনি তার অনুমতিপত্রের ফটোকপিতে ৩০ এপ্রিলের স্থলে দুই মাস লিখে নিয়ে কাস্টমসে নথিপত্র জমা দেন পণ্য ছাড়করণের জন্য। শুল্ক বিভাগ তার মূল অনুমতিপত্র যাচাই করে দেখতে পান আইপি জালিয়াতি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শুল্ক বিভাগ তার পেঁয়াজগুলো আটক করে। অভিযোগে জানা গেছে, আমদানিকারক তার আইপির মেয়াদ দুই মাস বাড়িয়ে দেখিয়ে আরো পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রাখতে চেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি কম দামে দেশে পেঁয়াজ এনে বিপুল মুনাফা করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
