পাহাড়ে পানির তীব্র সংকট সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ২২:৫১

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। রাঙ্গামাটির বরকল, বিলাইছড়ি, জুড়াছড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীরা সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে বহু দিন ধরে। বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় বহু দিন ধরে পানি সংগ্রহের নির্ভরযোগ্য উত্স ঝিরি, ঝরনা, ছড়া ও বিভিন্ন পানির প্রবাহ থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের কারণে সেই পানির প্রবাহ শুকিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়া তথা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণেই পানির সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে পাহাড়িরা। পানির সমস্যা সমাধানে সরকারের দ্রুত জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ‘পানির সংকটে জুম পাহাড়ের মানুষ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মিডিয়া সংস্থা ‘আইপিনিউজ’ এই সংলাপের আয়োজন করে।

পরিবেশ আইনজীবী বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যে জায়গায় পানির তীব্র সংকট আছে, যে ঝিরি ও ঝরনাগুলোর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে সেগুলোর সার্ভে, অবস্থান ও শুকিয়ে যাওয়ার প্রভাব নিরূপণ করাও জরুরি।’

আলোচনায় জাবরাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘প্রতি বছরই পাহাড়ের মানুষকে এই সংকটে পড়তে হয়। এর মূল কারণ ছড়ার পাথর তোলা, গাছ বিক্রি করা। বন উজাড় হওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন  বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অনুরাগ চাকমা বলেন, পাহাড় তথা বিভিন্ন জায়গায় বন দখল করা হচ্ছে এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটা বন্ধ না হলে পানির সংকট কাটবে না। আইপিনিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আন্তোনি রেমার সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন প্রাণচিত্র্য গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ, সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, বান্দরবানের উন্নয়ন সংস্থা হিউমেনিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মং মং সিং মারমা প্রমুখ।