মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মমতাই শপথ আগামীকাল

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ০১:১৮

নন্দীগ্রামে হেরে গেলেও পশ্চিমবঙ্গে আরো পাঁচ বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। গতকাল সোমবার তাকে তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় নেত্রী নির্বাচিত করেছে। এরপরই তিনি গতকাল রাতে রাজ্যভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সেখানেই নির্ধারিত হয় আগামীকাল বুধবার শপথ নিচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। এদিকে নন্দীগ্রামে পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না মমতা ব্যানার্জি। তিনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাচ্ছেন।

মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাজ্যপাল জগদীপ        ধনখড় এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজভবনে শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল সোমবার রাজ্যপাল ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন মমতা। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের আগের প্রথা মেনেই এই পদত্যাগ করেন তিনি। রাজ্যপাল সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণও করেন। জানা গেছে, মমতার সঙ্গে শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও। বাকিরা শপথ নেবেন বৃহস্পতিবার। উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে দ্রুত শপথের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। এছাড়া সম্পূর্ণ অনাড়ম্বরভাবে শপথ নেওয়া হবে বলেও এর আগে ঘোষণা করেছেন মমতা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মমতা ব্যানার্জি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারির কাছে ১ হাজার ৯৫৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এরপরও মমতাই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। গতকাল সোমবার তাকে তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় নেত্রী নির্বাচিত করেছে। এদিকে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, এই প্রথম দেখলাম প্রধানমন্ত্রী ফোন করলেন না। হয়তো উনি ব্যস্ত ছিলেন। আমি কিছু মনে করিনি।

মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মমতাই

মমতা বলেছেন, নন্দীগ্রামে একসময় তিনি ৮ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। এরপর হঠাত্ সার্ভারে সমস্যা হয়। ৪০ মিনিট লোডশেডিং ছিল। তার পরই ফলাফল উলটে যায়। মমতা অভিযোগ করেন, তার কাছে একটি এসএমএস আসে। তা থেকে তিনি জানতে পেরেছেন রিটার্নিং অফিসার পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রাণ সংশয় হতে পারে। মমতা বলেন, ঘোষণার পর ফল বদলে যায় কী করে? তিনি এ নিয়ে আদালতে যাবেন।

মমতা বলেন, ভোটে হেরে যাওয়ার পর বিজেপির সমর্থকরা বিভিন্ন জায়গায় গোলমাল শুরু করেছে। এরপর তিনি তৃণমূল সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা মানুষের পাশে থাকুন। ৬ মে এমএলএরা শপথ নেবেন। কোভিড পরিস্থিতি ভালো হয়ে গেলেও বড় করে অনুষ্ঠান হবে। এদিকে, নন্দীগ্রামে হেরে যাওয়ার পর মমতা কোন কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে দাঁড়াবেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, নন্দীগ্রামের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়া হবে। তবে সিদ্ধান্ত যদি পক্ষে না আসে তাহলে উপনির্বাচনে মুখোমুখি হতেই হবে মমতাকে। যদিও এজন্য ছয় মাস সময় রয়েছে মমতার হাতে। ভারতের নির্বাচনি নিয়ম অনুসারে, কেউ এমএলএ বা এমপি না হয়েও ছয় মাস পর্যন্ত কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন। সে অনুযায়ী মমতার হাতে সময় রয়েছে। তবে তার মধ্যে ভোটে জিতে আসতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩ আসনে জয়লাভ করেছে। তবে জয়ীদের মধ্যে এক জনের ইতিমধ্যেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে। তিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার খড়দা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তিনি হেরে গেলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু তিনি জিতে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়ে যাবে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, মমতা ঐ কেন্দ্রে প্রার্থী হতে পারেন। আবার বিকল্প হিসেবে কলকাতার টালিগঞ্জ কেন্দ্র বা ভবানীপুরকেও বেছে নিতে পারেন। ভবানীপুর তার পুরোনো কেন্দ্র। আর প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় মমতা বলেছিলেন টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকেও আমি দাঁড়াতে পারি। মনে করা হচ্ছে, প্রয়োজনে এই তিন কেন্দ্রের কোনো একটি থেকে মমতা উপনির্বাচন করতে পারেন। তবে ভবানীপুর বা টালিগঞ্জ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে জয়ী এমএলএদের কোনো এক জনকে পদত্যাগ করতে হবে।