ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীরা নিজেরাই সয়াবিনের নতুন যে দর নির্ধারণ করেছিলেন, সেখান থেকে সরে দাঁড়ালেন তারা। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে নতুন করে ভোজ্য তেলের দর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটারে দুই টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ হিসাবে খুচরা পর্যায়ে এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৪১ টাকায়। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল দেশের ভোজ্য তেল উত্পাদন ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে চিঠি দিয়ে নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানায়। ব্যবসায়ীরা লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৪৪ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৬৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারগুলোতে বাড়তি দরে ভোজ্য তেল বিক্রি শুরু হয়েছিল। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির এ দর নির্ধারণ করার কথা। কমিটিকে তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই দাম বাড়ায় সয়াবিন তেলের।
দাম বাড়ানোর আগে গত ১৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৩৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৬৬০ টাকা, খোলা সয়াবিন ১১৭ টাকা ও পামতেল ১০৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল। গতকাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে ভোজ্য তেলের নতুন এ দর নির্ধারণ করা হয়।
ভোজ্য তেলের নতুন দর নির্ধারণের পর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও টিকে গ্রুপের পরিচালক মোস্তফা হায়দার বলেন, ভোজ্য তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানো হলেও রমজান মাসকে বিবেচনা করে তিন টাকা কমানো হয়েছে। অর্থাত্, প্রতি লিটার ভোজ্য তেলে দাম বাড়ছে দুই টাকা। তবে এ নিয়ে চলতি বছরেই তিন দফা দাম বাড়ল ভোজ্য তেলের।
আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ায় দেশের বাজারের সঙ্গে তা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোজ্য তেলের এই দর পুনর্নির্ধারণ করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটি।
