গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগীদের মধ্যে পোকাধরা ও নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। কোনো চালের রং লালচে, কোনোটি সবুজ, আবার কোনটি কালো, কোনোটি নীল। খাওয়ার অনুপযোগী এসব চাল উপকারভোগীরা খেতে পারছেন না। তবে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ বলছে—রং যেমনই হোক চালের গুণমান ঠিক আছে, খেতে কোনো সমস্যা নেই।
গত শনিবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিজিডির চাল বিতরণের পর পোকাধরা ও নিম্নমানের চাল বিতরণের বিষয়টি জানাজানি হয়। সাঘাটা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, সাঘাটা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ভিজিডির উপকারভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮০ জন। এর মধ্যে উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নে ভিজিডির উপকারভোগী ২০৩ জনের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
এদিকে সোমবার উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরেও এই কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা এসব চাল দেখে সবাই হতবাক। কারণ কোনো চালের রং লালচে, কোনোটি সবুজ, আবার কোনটি কালো, কোনোটি নীল।
মুক্তিনগর ইউনিয়নের উপকারভোগী আলেয়া বেগম (৫০) বলেন, এই চাল তো মানুষ খেতে পারবে না। গরু-ছাগলকে খাওয়ালেও অসুস্থ হবে। কারণ চালের মধ্যে পোকা নড়াচড়া করছে। একই ইউনিয়নের সুবিধাভোগী নবান আলী (৪৮) বলেন, আমরা গরিব মানুষ। তাই বলে কি আমাদের পচা চাল দেওয়া হলো।
মুক্তিনগর ইউপি সদস্য পান্না শেখ বলেন, ‘নিম্নমানের চাল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমরা জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না। জনগণ মনে করে এ চাল আমরাই দিই। মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশাদ আজিজ বলেন, ‘এবার ভিজিডির চালের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত নিম্নমানের চাল কখনো দেখিনি। এ চাল বিতরণের কারণে উপকারভোগীরা আমাদের গালমন্দ করছেন। বিষয়টি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে বাধ্য হয়ে চাল বিতরণ করি।
এসব বিষয়ে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন আলম বলেন, ‘চালের রং লালচে হওয়ার কারণ বেশি হিট পেয়েছে। তবে চালগুলো গুণমান কমেনি। সম্পূর্ণভাবে খাওয়ার উপযোগী। এতে কোনো সমস্যা নেই।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
