এদেশের গুণী নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা। নিজের নৃত্যচর্চার পাশাপাশি এদেশের একাধিক শিক্ষার্থী প্রেমার হাত ধরেই নৃত্যের প্রতি অনুরক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি নাচ নিয়ে সাংগঠনিক চর্চা যেমন, সংসার সন্তান নিয়ে সাবলীল এক জীবন শিল্পের সঙ্গে। কথা বলেছেন সাম্প্রতিক কাজ ও ভাবনা নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
করোনার কারণে বর্তমানে তেমন কোনো প্রোগ্রাম নেই। তবে বিশেষ দিবসে নিজেদের মতো করে ঘরোয়াভাবে কিছু নাচের প্রোগ্রাম করছি। আসছে রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তীতে আমার নাচের স্কুল এবং অণিমা রায়ের গানের স্কুলের সমন্বয়ে একটা প্রোগ্রাম করার পরিকল্পনা চলছে।
আপনার সংগঠন ভাবনার কার্যক্রম তাহলে কীভাবে চলছে?
আমরা করোনার শুরু থেকেই অনলাইলে ক্লাস করাচ্ছি। যদিও শুরুতে নানা প্রতিকূলতা ছিল, তবে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।
জাতির জনকের জন্মশতবর্ষের প্রোগ্রামে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা জানতে চাই—
জাতির জনকের জন্মশতবর্ষের শুরুতেও একটি প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলাম। তখন আকরাম খান ড্যান্স একাডেমির নির্বাচিত ২৫ জন শিল্পীর একজন ছিলাম আমি। এরপর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি আমাকে নির্বাচিত করে একটি প্রোগ্রামের জন্য। বঙ্গবন্ধু ও দেশকে তুলে ধরার জন্য এই সুযোগ পেয়ে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হয়েছে। নাচ, গান ও আবৃত্তির সমন্বয়ে দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরেছিলাম।
নাচকে অনেকেই সিঁড়ি হিসেবে দেখেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
নাচ একটা শিল্পমাধ্যম, পণ্য নয়। এই শিল্প মাধ্যমটিকে অনেকেই পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। একটা সময় অনেকেই নাচ দিয়ে স্টার হয়েছেন। কিন্তু এখন চাকচিক্য জীবনের প্রতি টান থেকে অনেকে নাচকে ব্যবহার করছেন পণ্য হিসেবে। মূলত গুরু-শিষ্য পরম্পরার অভাব থেকেই এমন হচ্ছে বলে আমি মনে করি।
আমাদের সাংসৃ্কতিক পরিবারে ছোটবেলায় নাচের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পরে সেটা হারিয়ে যায়। এ কারণ হিসেবে কী বলবেন?
নাচকে সেভাবে মানুষের কাছে উপস্থাপন করা হয় না। আপনি যদি নাচ না জানা লোক দিয়ে একটি প্রোগ্রাম করান এবং সেটা যদি অভিভাবকরা দেখেন তাহলে তো তারা ছেলেমেয়েকে নাচ শেখানোর আগ্রহ হারাবেই।
আপনার জেনে আসা নৃত্যশিল্পী। তারপরও কম জানা শিল্পীদের দিয়ে বেশিরভাগ কাজ করানো হচ্ছে। এ নিয়ে কী বলবেন?
এটা খুবই হতাশার যে, না জানা লোকের কাছে নাচ চলে যাচ্ছে। এখন অনেক সময়ই দেখি এমন একজনকে টিভি বা কোনো প্রোগ্রামে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে নাচ সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা রাখে না। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও জ্ঞানের অভাবে এমনটা হচ্ছে।
দেশের প্রেক্ষাপটে নাচকে পেশা হিসেবে নেওয়া কতটা ইতিবাচক বলে মনে করেন?
অবশ্যই নাচকে পেশা হিসেবে নেওয়া যায়। আমি নিজেও নাচকে পেশা হিসেবে নিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল রয়েছি। আমরা যে সময় শুরু করেছিলাম সে সময়ের চেয়ে এখন নাচকে পেশা হিসেবে নেওয়া আরো সহজ। কারণ এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাচের সাবজেক্ট রয়েছে। নাচের প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র, মিউজিক ভিডিওতে কোরিওগ্রাফিসহ নাচের অনুষ্ঠান বেড়েছে।
বিশেষ দিবস ছাড়া নাচের প্রোগ্রাম হয় না বলে অভিযোগ আছে। এ নিয়ে কী বলবেন?
এটা আমাদের অনেক বড় ক্ষোভের জায়গা। অনেক কষ্ট করে আমরা নাচ শিখে আসি, কিন্তু নিজেকে প্রকাশ করার যদি প্লাটফর্ম না পাই তাহলে খুব কষ্ট হয়। এই প্রোগ্রাম না থাকার কারণে নাচ সম্পর্কে মানুষ জানতে পারছে না।
সদ্যপ্রয়াত মিতা হকের সঙ্গে আপনার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তার কোন স্মৃতি আপনাকে তাড়া করে বেড়ায়?
মিতা হকে সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। ওনার সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তবে ছায়ানটের মাধ্যমে ওনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়। তার সুন্দর সুন্দর কথা, তার আদর্শ আমাকে প্রভাবিত করেছে। উনি খুব আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের সঙ্গে মিশতেন। যেটা খুব মিস করি।
