বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি দেড় লাখ ইয়াবা ফেলে পালাল পাচারকারীরা

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ২২:১৫

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে গোলাগুলির পর দেড় লাখ পিস ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে পাচারকারী চক্র। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ধামনখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে প্রায় সাড়ে ৯ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ কর্মহীন রোহিঙ্গা তাদের চাহিদা পূরণ করতে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নিয়ে আসছে ইয়াবা ও স্বর্ণের বারসহ নানা রকম মাদকদ্রব্য। এসব অবৈধ মালামালের কর্তৃত্ব ও ভাগাভাগি নিয়ে ক্যাম্পে প্রায় সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লাগে। গত এক মাসে বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ক্যাম্পে প্রায় ১০ জন রোহিঙ্গা মারা গেছে বলে ক্যাম্পে দায়িত্বরত মাঝিরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় বেশ কয়েকটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যে কিছু কিছু চালান আটক করতে সক্ষম হলেও বেশির ভাগই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ পাচার করতে গিয়ে গত তিন মাসে শুধু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতেই আটক হয়েছে অন্তত ২০ জন রোহিঙ্গা। এর মধ্যে আটক আট জন রোহিঙ্গা কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান থেকে দূরে হওয়ায় এখানে প্রায় সময় অপহরণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে। প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস এখানে। লম্বাশিয়া ক্যাম্পে নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পটিতে নিয়মিত সহিংস ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ক্যাম্পের দায়িত্বরত মাঝি। তারা বলছেন, নাম প্রকাশ করলে রাতের অন্ধকারে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যাবে। একটি গ্রুপ এ সমস্ত অপকর্ম করে ক্যাম্পে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি করেও এসব অপরাধীকে ধরতে পারছে না।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বর্তমানে ইয়াবা ও স্বর্ণের বার পাচার হয়ে আসছে। তাছাড়া এখানে রোহিঙ্গারা ভোটার হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মিয়ানমার থেকে বেশ কয়েকটি পরিবার অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তিনি সীমান্তে বিজিপির কড়াকড়ি জোরদার করার আহ্বান জানান।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সনজুর মোরশেদ জানান, ক্যাম্পের বিশাল জনগোষ্ঠীর তুলনায় পুলিশে লোকবল খুবই কম।  এরপরও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও মাদক পাচার প্রতিরোধে পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।