কারণ করোনা ভাইরাস

যুক্তরাজ্যে দলবলসহ আইসোলেশনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০০:৪৬

বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেনের আলোচনায় যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর ভারতীয় প্রতিনিধিদলের দুই জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ অবস্থায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ পুরো ভারতীয় প্রতিনিধিদলটিকে আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের দুই জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন বলে তাকে জানানো হয়েছে।

ভারতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং প্রতিদিনই আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়া ও মৃত্যুর সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ব্রিটেনে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছিলেন। টুইট করা এক ছবিতে দেখা যায়, তারা দুই জনই মুখে মাস্ক পরে আছেন এবং তারা দুটি ফাইল বিনিময় করছেন।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে বজায় রাখার কারণে এই বৈঠকে যারা যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের আইসোলেশনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এখন তার নির্ধারিত সব বৈঠক অনলাইনে করবেন। তিনি বলেন, সতর্কতা হিসেবে এবং অন্যদের কথা বিবেচনা করে আমি আমার সব বৈঠক ভার্চুয়ালি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জি-সেভেন জোটের সদস্য নয় ভারত, কিন্তু সে দেশের প্রতিনিধিদের এই সম্মেলনে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর কোনো আলোচনায় শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে ব্রিটেনের ঊর্ধ্বতন এক জন কূটনীতিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

জি-সেভেনের সদস্য হচ্ছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র। এই জোটের নেতাদের আনুষ্ঠানিক সম্মেলন হবে আগামী জুনে। কিন্তু তার আগে এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় দুই বছর পর এই প্রথম জোটের সদস্য দেশের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক হচ্ছে।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিদলকে আহ্বান জানানো হয় অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য। আলোচনায় যেসব প্রতিনিধি যোগ দিতে এসেছেন তাদের প্রত্যেক দিন পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর পরিবর্তে কনুই দিয়ে স্পর্শ করার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান।

ভারতের মতো দেশে ভোট বন্ধ রাখা যায় না

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ রূপ নেওয়ার জন্য নির্বাচনি সভা-মিছিলে বিপুল জনসমাবেশকে দায়ী করছেন অনেকে। মহামারিতে মানুষের প্রাণ যখন বিপন্ন, তখন নির্বাচন করানোর প্রয়োজন কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আন্তর্জাতিক মহলও। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বুধবার সংবাদমাধ্যমে এমনই প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। জবাবে তিনি বলেন, মহামারির ধাক্কায় এখন নানা যুক্তি, প্রশ্ন আসবে। নির্বাচনের কথাও উঠছে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আর ভারতের মতো দেশে নির্বাচন বন্ধ রাখা যায় না। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কয়েক দশক আগে একবারই শুধু নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছিল। আমি তখন খুব ছোট। সেই স্মৃতির সঙ্গে আর নিজেদের জড়াতে চাই না আমরা।