উজানের রাবার ড্যামে ভাটির কৃষক সেচ সংকটে

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৪১

জেলার ঝিনাইগাতীতে কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে মহারশী নদীর রাবার ড্যামের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। উজানে রাবার ড্যামের কারণে ভাটি এলাকার কৃষকরা সেচ সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, শতশত একর জমিতে বোরো চাষাবাদ ব্যাহত।

জানা যায়, ২০১৩ সালে মহারশী নদীর নলকুড়া ইউনিয়নে জাইকা প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ শুরু করে। কৃষকদের অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে এ রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে শুরু হয় এ রাবার ড্যামের পানিতে বোরো আবাদ। রাবার ড্যাম পরিচালনায় গঠন করা হয় মহারশী নদীর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিন্তাহরণ হাজং জানান, ‘তাদের সমিতির আওতাভুক্ত কৃষক পরিবার রয়েছে এক হাজার দুইশ ৫৫ জন। এ রাবার ড্যামের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে তিন হাজার পাঁচশ একর জমিতে বোরো চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’

জানা যায়, রাবার ড্যামের পানিতে ওই অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় আসলেও ভাটি এলাকার শত শত একর জমি সেচ সংকটে পড়েছে। ভাটির সেচ সংকটে পড়া নলকুড়া, গজারীপাড়া, ভারুয়া, জারুলতলা, বনকালী, বারুয়ামারী, রামেরকুড়া, ডেফলাই ও শালচূড়া এলাকার কৃষকরা জানান, ‘মহারশী নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে তারা যুগযুগ ধরে তাদের জমিতে বোরো আবাদ করে আসছিল। কিন্তু উজানে রাবার ড্যাম নির্মাণ করায় এখন আর নদীতে পানি নেই। ফলে সেচ দিতে না পারায় তাদের জমি গুলো অনাবাদী থাকছে। কোনো কোনো এলাকায় রাবার ড্যামের পানি সরবরাহ করা হলেও পুরো এলাকায় পানি বণ্টন করা হয়নি।’

আরো পড়ুন: সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে রাবার ড্যামের উজানে চারপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পাকা ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন। এতে সেচ সংকট দূর করার পাশাপাশি বোরো চাষাবাদের আওতায় আসবে সেচ সংকটে পড়া জমি গুলো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাবার ড্যাম সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ড ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ ভাটি এলাকার সেচ সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাবার ড্যামের ড্রেন নির্মাণসহ কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ এলেই সম্প্রসারণ কাজ করে কৃষকদের সেচ সংকট সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।’

ইত্তেফাক/অনি