সংকটে আশার আলো বুয়েটের ‘অক্সিজেট’

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ২২:১৭

 

ঢাকা মেডিক্যালে তৃতীয় ধাপে পরীক্ষা

আরফিন শরিয়ত, ঢাবি সংবাদদাতা

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ যখন সংকীর্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তখনই কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষকদের উদ্ভাবিত ডিভাইস ‘অক্সিজেট’। বিদ্যুতের ব্যবহার ছাড়াই হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় ভোগা রোগীদের ৬০ লিটার অক্সিজেন প্রবাহের সুযোগ এবং স্বল্পমূল্যে রোগীদের সেবা এ আশার আলো দেখাচ্ছে। স্বল্পমূল্যে অক্সিজেন এবং উচ্চগতির ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করতে  ১০ মাসের গবেষণার পর ‘অক্সিজেট’ তৈরি করেছে বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একদল গবেষক। ডিভাইসটি রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করবে।  ইতিপূর্বে যা হাইফো ন্যাজাল ক্যানোলা অথবা আইসিইউতে পূরণ করা হতো।

গবেষকরা জানান, ‘হাসপাতালে সাধারণ বেডে রোগীকে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া যায়, এর বেশি অক্সিজেনের দরকার পড়লে তখন হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা লাগে অথবা আইসিইউতে নিতে হয় রোগীকে। করোনার এ সময়ে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় ভোগা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্বাসতন্ত্রের অনেক বেশিসংখ্যক রোগী হয়ে যাওয়ায় হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও আইসিইউ সংকট দেখা দিচ্ছে। অক্সিজেট এ সংকট  মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে। তারা জানান, বাংলাদেশের অনেক হাসপাতালে বৈদ্যুতিক সমস্যা আছে। এজন্য আমরা দেখতে থাকি কীভাবে বিদ্যুত্ ছাড়া স্বল্পমূল্যে হাইফ্লো অক্সিজেন দেওয়া যায়। সেখান থেকেই ‘অক্সিজেট’ ডিভাইসের ধারণা আসে।

এ প্রকল্পের কাজ করছেন বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষণা সহকারী মীমনুর রশিদ, কাওসার আহমেদ ও ফারহান মুহিব। বিভাগের প্রভাষক কায়সার আহমেদ ও সাঈদুর রহমান। গবেষণা কাজে নেতৃত্বদানকারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তওফিক হাসান জানান, ‘একজন রোগীকে কতটুকু অক্সিজেন দিলে বা বাতাসের সঙ্গে মিশালে তার জন্য পর্যাপ্ত হবে; একই সঙ্গে তার অক্সিজেনের মাত্রা যাতে ঠিক থাকে—এসব বিষয় মাথায় রেখে আমরা টেস্টিং এবং কম্পিউটার সিমুলেনের মাধ্যমে ডিভাইসটির ডিজাইন করি। ডিভাইসটি তৈরিতে বর্তমান প্রযুক্তিতে আমাদের দুই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে করতে গেলে ডিভাইসটি উত্পাদনের খরচ কমে আসবে। শুরুতে কয়েকটি ডিভাইস বানালেও বর্তমানে ৫০টি  বানানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। ’

গবেষক দলের প্রধান ড. তওফিক হাসান বলেন, ‘হাসপাতালে আইসিইউয়ের ওপর চাপ কমাতে আমরা অক্সিজেট তৈরি করেছি। ক্লিনিকাল ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে সফল হওয়ার পর বর্তমানে এটি ঢাকা মেডিক্যালে তৃতীয় ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মিনিটে ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ অক্সিজেন প্রবাহ সরবরাহ করতে পারে। স্বাভাবিক অক্সিজেনের ফ্লো-মিটারের সঙ্গে ডিভাইসটি যুক্ত করতে হয়। এটি বাইরের বাতাস টেনে ১৫ লিটারের অক্সিজেন থেকে ৬০ লিটারের প্রবাহ তৈরি করে। দ্বৈত ফ্লো মিটারের সাহায্যে অক্সিজেনের ঘনত্ব ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত করা সম্ভব। চিকিত্সকরা যাতে ন্যূনতম প্রশিক্ষণ নিয়ে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারেন, সেভাবেই এটি তৈরি করা হয়েছে। এটি রোগীদের জন্য হাসপাতালে অথবা সিলিন্ডারের সাহায্যে অ্যাম্বুলেন্সে ব্যবহার করা যেতে পারে।’ বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, বর্তমানে ডিভাইসটি তৃতীয় ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা মেডিক্যালে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভালো ফল পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। পরীক্ষা সফল হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনের পর ডিভাইসটি কারা বানাবে, কে মালিকানা পাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।