রাবিতে নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ হামলা, সংঘর্ষ ছাত্রলীগে

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ২২:৫২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিয়োগ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ দ্রুত লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিচার্জে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ক্যাম্পাস ছেড়ে নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটির নিজের বাসায় চলে যান। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৭ মে দ্বিতীয় মেয়াদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগদান করেন অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। গতকাল বৃহস্পতিবার তার শেষ কার্যদিবস ছিল। শেষ দিন বিভিন্ন পদে ১৩৭ জনকে অ্যাডহক নিয়োগ দিয়ে  গেছেন তিনি। এ নিয়ে ছাত্রলীগের একাংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে চড়াও হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘৬ মে রাত ১২টা পর্যন্ত আমার নিয়োগ আছে। তার আগেই সরকারি বাড়ি ছেড়েছি। আমি পুলিশের পাহারা চাইনি, পুলিশ ইচ্ছা করেই আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে।’ তার সময়ে শত বিতর্কের পরও নিজেকে সফল দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরিপ্রত্যাশী মহানগর ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে এসে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেকশন অফিসার মাসুদের ওপর হামলা চালান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাবি শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। পরে রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া করলে মহানগর ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যান।

রাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী পরিচালক জানান, ‘আজ রাবি ভিসি আব্দুস সোবহানের মেয়াদের শেষ দিন। তিনি চাকরিপ্রত্যাশী ১৩৭ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রচার হলে মহানগর ছাত্রলীগের চাকরিপ্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এ সময় তারাও চাকরি দাবি করেন এবং তাদের এমন ভাব—যেন এখনই তাদের নিয়োগ দিতে হবে। এ নিয়ে সেকশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা হামলা চালায়। এ সময় আমি এগিয়ে গেলে তারা আমাকেও লাঞ্ছিত করেন।’

প্রসঙ্গত, উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্তের পর অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গত কয়েক দিন ধরে অবৈধ নিয়োগের আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজসহ চাকরি প্রার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীরা লাগাতার আন্দোলন করছিলেন। গত ৪ মে উপাচার্যের শেষ সিন্ডিকেট মিটিংকে কেন্দ্র করে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকরা স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। এ সময় একজন ছাত্রলীগ কর্মী শিক্ষকদের প্রকাশ্যে গুলি করে মারারও হুমকি দেন।

এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে মাস্টাররোলের কর্মচারীরা অভিযোগ করে আসছিলেন, তারা গত এক মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পাচ্ছেন না। তবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস প্রদান শুরু হয়েছে বলে মাস্টাররোল কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. মাসুদুর রহমান জানান। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন ছুটি, শবেকদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ৯ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস এবং ৩০ মে পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।