বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র কয়লা পাচ্ছে না দুই মাস

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ২৩:২১

প্রায় দুই মাস ধরে কয়লা পাচ্ছে না দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র। রেশনিং পদ্ধতিতে আগের মজুতকৃত কয়লা দিয়েই তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিটে এখন চলছে বিদ্যুত্ উত্পাদন। তবে চলতি মে মাসের মধ্যে কয়লা সরবরাহ না পেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই বিদ্যুেকন্দ্রের উত্পাদন। ৫২৫ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুেকন্দ্র এখন জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে পারছে ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। পাশেই অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে না।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এস এম ওয়াজেদ আলী সরদার জানান, এই তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিটে রুটিনমাফিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলার কারণে গত জানুয়ারি মাস থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে। চালু রয়েছে শুধু অপর দুটি ইউনিট। এ দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি ১২৫ মেগাওয়াট এবং অপরটি ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটটি থেকে বর্তমানে বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে ৮০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয়টি থেকে উত্পাদন হচ্ছে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। দুটি ইউনিট চালাতে দৈনিক কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে ৪ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে তারা বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা সরবরাহ পাচ্ছেন না। রেশনিং পদ্ধতিতে আগের মজুতকৃত কয়লা দিয়ে বর্তমানে চালানো হচ্ছে এ দুটি ইউনিট। তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রে বর্তমানে যে পরিমাণ কয়লা মজুত রয়েছে, তা দিয়ে মে মাস পর্যন্ত দুটি ইউনিট চালানো যেতে পারে। এই মুহূর্তে মজুতকৃত কয়লার পরিমাণ জানাতে পারেননি তিনি। তবে তিনি বলেন, বিদ্যুেকন্দ্র চালু রাখতে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কয়লার প্রয়োজন হবে। কেন কয়লা সরবরাহ পাচ্ছেন না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।     এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান খান জানান, গত মার্চ মাসে খনির ১৩০৭ নম্বর ফেইস থেকে কয়লা উত্তোলন শেষ হয়েছে। এই ফেইস পরিবর্তন করে ১৩১০ নম্বর ফেইসে কয়লা উত্তোলনের যন্ত্রপাতি স্থানান্তর করা হয়েছে। গত ৩০ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩০৭ নম্বর ফেইস থেকে ১৩১০ নম্বর ফেইসে যন্ত্রপাতি স্থানান্তর প্রক্রিয়ার কারণে কয়লা উত্তোলন বন্ধ ছিল। তাই এই সময়ে কয়লা উত্তোলন সম্ভব হয়নি। গত ৩০ এপ্রিলের পর থেকে নতুন ১৩১০ নম্বর ফেইস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। এই ফেইস থেকে পুরোদমে কয়লা উত্তোলন শুরু হলেই তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করা হবে।