জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্ণ হলেও উপ-উপাচার্য ছাড়াই চলছে এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনেই নেই উপ-উপাচার্যের বিধান। পদটি শূন্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক, আর্থিক ও নানা উন্নয়নমূলক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ধারণা উপ-উপাচার্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতা দূর হবে, ধীরগতি থাকবে না একাডেমিক কার্যক্রমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন হবে দ্রুত গতিতে। পাশাপাশি সেশনজটসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা খুব সহজেই নিরসন হবে। অভিযোগ আছে, আইন সংশোধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন থেকে প্রশাসনের কাছে দাবি জানালেও এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেননি সাবেক উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান। আইন সংশোধনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের গাফিলতিকে দায়ী করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, সাবেক উপাচার্য তার একক আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য উপ-উপাচার্যের আইন সংশোধনের বিষয়ে তত্পর ছিলেন না।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন, অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্যের কাজ ট্রেজারারকে দিয়ে করানো হচ্ছে। উপ-উপাচার্য না থাকায় প্রশাসনিক কাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করলেও সাবেক উপাচার্য এই আইন সংশোধনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেননি। তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতি থাকাকালে ২০১৬ সালে উপ-উপাচার্যের আইন বিশ্ববিদ্যালয় আইনে যুক্ত করার বিষয়ে প্রতিটি বিভাগের চেয়ারম্যান থেকে স্বাক্ষর নিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া দেন। কিন্তু সেটা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়নি বরং এটি নিয়ে গড়িমসি করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নূরে আলম আবদুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য খুবই দরকার। এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি একমত। এই বিষয় নিয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠিও দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দল (একাংশ) সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জাকারিয়া মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উপ-উপাচার্য বিষয়টি নিয়ে সংশোধন চেয়ে তারাও একাধিকবার আবেদন করেছেন। কিন্তু সরকারের কাছে তা দাখিল করেনি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
